ই-কমার্স বিজনেস – ঘরে বসেই শুরু করুন ই-কমার্স ব্যবসা (পর্ব ০২)

ই-কমার্স বিজনেস এর এই পর্বে আমরা জানবো কাস্টমার নির্বাচন ও প্রাথমিক প্ল্যানিং নিয়ে।

কাস্টমার নির্বাচন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে থাকা

ই-কমার্স বিজনেসের কোন নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। রকমারি ডট কম, চালডাল ডট কম, আজকেরডিল ডট কম যেমন ই-কমার্স সাইট (প্রথম ক্যাটাগরি); টি-জোন, সিভি স্ট্রিটও ই-কমার্স বিজনেস করছে (দ্বিতীয় ক্যাটাগরি); তেমনি বিক্রয় ডট কমও ই-কমার্স বিজনেসের সাথে জড়িত (তৃতীয় ক্যাটাগরি)… যদিও ছয়টা ছয় রকম… কাস্টমারও কিছুটা ভিন্ন। আমরা এই সিরিজে মুলত প্রথম ও দ্বিতীয় ধরনের ই-কমার্স বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছি। এছাড়াও আরও অনেক ধরনের ই-কমার্স বিজনেস আছে, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব না।

ই-কমার্স বিজনেস – ঘরে বসেই শুরু করুন ই-কমার্স ব্যবসা (পর্ব ০২)

যেকোনো ব্যবসার প্রথম শর্ত হল আগে আপনাকে আপনার ক্ষেত্র বাছাই করতে হবে ও সেই মোতাবেক আগাতে হবে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনি নিজে নিজে বের করার চেষ্টা করুন, এতে ভবিষ্যতে অনেক ঝামেলা এড়ানো যাবে…

১। আপনি কি বিক্রি করবেন? সবকিছু (অনলাইন সুপারস্টোর)? নির্দিষ্ট কোন আইটেম (যেমন বই বা প্রসাধনী)? নিজের তৈরি করা পণ্য (যেমন টি শার্ট, কাস্টম গিফট কার্ড, চামড়ার জিনিস)। এটা ভেবে চিন্তে প্রথমেই ঠিক করে নিন, যেন পরে যগা-খিচুরি না হয়ে যায়। এর উত্তরের উপর নির্ভর করবে পরের সব কিছু।

২। আপনি যা বেচতে চাচ্ছেন, তার কি যথেষ্ট চাহিদা আছে?

৩। আপনার পণ্য কিনবে কারা? বয়স, প্রফেশান, লকেশানের উপর ভিত্তি করে বের করার চেষ্টা করুন আপনার মূল কাস্টমার বেইয কত বড়। আপনি ১০,০০০ মানুষ কে টার্গেট করবেন নাকি ১০,০০,০০০? এতে ভবিষ্যৎ খরচের একটা ধারণা পাবেন। যেমন, আপনি যদি শুধু টি শার্ট বেচতে চান, আপনার মেইন কাস্টমার হবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলেরা (মেয়েরাও হবে, ১৮ এর নিচেও হবে, ২৫ এর বেশি ও হবে… কিন্তু হিসাবের ক্ষেত্রে ধরতে হবে শুধুমাত্র “মেইন” গ্রুপকে)। বাংলাদেশ এ আনুমানিক কতজন ছেলে আছে যাদের বয়স ১৮-২৫, যারা শহরে বা মফঃস্বলে থাকে ও যাদের ইন্টারনেট আক্সেস আছে? এরাই আপনার “মেইন কাস্টমার”। এদের পেছনেই আপনি খরচ করবেন (মার্কেটিং)।

৪। আপনার পণ্য যারা কিনবে, তারা বর্তমানে কাদের কাছ থেকে পণ্য কিনছে (বা কিনতে পারে)? এ থেকে আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটা তালিকা তৈরি করতে পারবেন। তালিকাটি সবসময় হালনাগাদ করে রাখবেন ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা কি করছে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

৫। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কাস্টমারকে যা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আপনি কি তা দিতে পারবেন? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় নিয়ে এর উত্তর ভেবে বের করুন।

ই-কমার্স বিজনেস প্রাথমিক প্ল্যানিং

উপরের পাঁচটি প্রশ্নের উত্তরই আসলে আপনাকে আপনার প্রাথমিক প্ল্যান তৈরি করতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক প্ল্যান এ যা যা থাকবেঃ

১। ট্রেড লাইসেন্স নিজের নামে করবেন নাকি পার্টনারশিপের নামে?
২। নিজের তৈরি পণ্য বেচবেন নাকি অন্যের তৈরি? (পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে)
৩। কাস্টমারকে ধরবেন কি করে? (পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে)
৪। পণ্য কাস্টমারের হাতে পৌছাবেন কিভাবে? (পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে)
৫। প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফাঁক খুজে বের করবেন কিভাবে?
৬। নতুন কোন প্রতিদ্বন্দ্বী যেন আপনার সার্ভিসের ঘাটতি খুজে বের করে তার সুযোগ না নিতে পারে, তার জন্য কি করবেন?

যেকোনো বিজনেসেই অনেক ঝুঁকি থাকে। তাই প্ল্যানিং টা হতে হয় ফুল্প্রুফ ও কেল্কুলেটেড। এতে আপনার ঝুঁকিই কমবে… লাভের সম্ভাবনা বাড়বে। নিজে যখন প্ল্যানিং করবেন, তখন তা আপনার বিশ্বস্তদের সাথে শেয়ার করুন, তাদের উপদেশ চান। এতে কোন লজ্জা নেই। উদ্যোক্তারা যেমন স্বাধীনচেতা হয়, তেমনি তাদেরকে সহনশীল হতে হয়। সবার উপদেশ মন দিয়ে শুনুন, তা ফিলটার করুন ও নিজের ব্যবসায় কাজে লাগানর মত হলে কাজে লাগান। প্ল্যানিং এর সময়, কেউ কোন উপদেশ দিলে কখনই বলবেন না “আমি এটা আগেই ভাবসি”। তাকে তার প্রাপ্য ক্রেডিট দিন। আপনার ব্যবসায় সাফল্য আসলে আপনিই লাভবান হবেন।

Leave a Reply