এন্ড্রয়েড (Android) কি ? জেনে নিন এন্ড্রয়েড (Android) এর বিস্তারিত

এক নজরে বিস্তারিত

এন্ড্রয়েড কি? (What is Android?)

এন্ড্রয়েড হলো স্মার্টফোনের জন্য তৈরি এক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম, যেখানে মিডলওয়্যার (একাধিক এপ্লিকেশনের মধ্যে সহজ যোগাযোগের জন্য মিডলওয়্যার (Middleware) ব্যবহৃত হয়ে থাকে) ও কিছু বিল্ট-ইন এপলিকেশনও রয়েছে। ডেস্কটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কম্পিউটার যেমন উইন্ডোজ এক্সপি, ভিসতা, উইন্ডোজ ৭, ম্যাক ওএস, লিনাক্স নামের বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে চলে তেমনি স্মার্ট মোবাইল ফোনের (স্মার্টফোনর) একটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম এন্ড্রয়েড। এই এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি বাজারে নিয়ে আসে গুগল। স্মার্টফোনর –এর আরো কিছু অপারেটিং সিস্টেম- নকিয়ার সিম্বিয়ান, অ্যাপলের iOS, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ফোন ইত্যাদি।

এন্ড্রয়েড ফোন বা এন্ড্রয়েড মোবাইল (Android Phone or Android Mobile)

সহজ ভাষায় বলা যায়, যেসব মোবাইল ফোন এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলে সেগুলোকেই এন্ড্রয়েড ফোন বা এন্ড্রয়েড মোবাইল বলে। এসার (Acer), অ্যালকেটেল (Alcatel), ডেল (Dell), গিগাবাইট (Gigabyte), এইচটিসি (HTC), হুয়াই (Huawei), এলজি (LG), মটোরোলা (Motorola), নেক্সাস (Nexus), সনি (Sony), স্যামসাং (Samsung), টি-মোবাইল (T-Mobile), তোশিবা (Toshiba), ভোডাফোন (Vodaphone), জেডটিই (ZTE) প্রভৃতি বড় বড় প্রায় সব কোম্পানী এই এন্ড্রয়েড মোবাইল তৈরি করে থাকে। তবে এই ধরনের বড় বড় সব কোম্পানীর এন্ড্রয়েড ফোন বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারে যে সমস্ত কোম্পানীর এন্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যাচ্ছে তা হলঃ সনি (Sony), স্যামসাং (Samsung), এলজি (LG), মটোরোলা (Motorola), এইচটিসি (HTC),মাইক্রোম্যাক্স (Micromax), সিমফোনি (Symphony), ওয়ালটোন (Walton)। এছাড়া আরও কিছু কিছু কোম্পানী বর্তমানে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন তৈরি করছে। তবে বাংলাদেশে গ্রাহক জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে সনি, স্যামসাং, সিমফোনি, ওয়ালটোন ও মাইক্রোম্যাক্স –এর স্মার্টফোন গুলো।

এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন বা এন্ড্রয়েড অ্যাপস (Android Application or Android Apps)

আমরা কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করি। প্লাটফর্ম অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। যেমন উইন্ডোজের জন্য তৈরি সফটওয়্যার ম্যাক বা লিনাক্সে চলবেনা। তেমনি আইফোনের জন্য তৈরি সফটওয়্যার এন্ড্রয়েডে চলবেনা। এন্ড্রয়েড ফোন বা এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলে এমন সফটওয়্যার, গেম, উইজেট বা অ্যাপস গুলোই হল এন্ড্রয়েড এপলিকেশন বা এন্ড্রয়েড অ্যাপ।

এন্ড্রয়েড (Android) কি ? জেনে নিন এন্ড্রয়েড (Android) এর বিস্তারিত

এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডাউনলোড (Android Apps Download)

গুগলে “Android Apps Download” নামে সার্চ দিতে অসংখ্য এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডাউনলোডের লিঙ্ক চলে আসবে। কিন্তু সব জায়গা থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করে আপনার ফোনে ইন্সটল করে অনেক রকম ঝামেলায় পড়তে পারেন, এমনকি আপনার স্মার্টফোনটি সারা জীবনের জন্য ডেড (অকেজো) হয়ে যেতে পারে। তাই না জেনে বা বুঝে যে কোনো ওয়েবসাইট বা লিঙ্ক থেকে অ্যাপস ডাউনলোড না করে গুগল প্লে থেকে সরাসরি ইন্সটল করে নেয়া ভালো। আর আপনার মনের মত অ্যাপটি খুজে নিন অনলাইন ঢাকা গাইড –এর অ্যাপস কর্ণার থেকে।

এন্ড্রয়েড ফ্রি অ্যাপস ডাউনলোড করতে প্রথমে আপনাকে জিমেইল (Gmail) বা গুগল (Google) লগ-ইন করতে হবে। এরপর google.com –এ যেয়ে গুগল প্লে (Play) সিলেক্ট করতে হবে। এখান থেকে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে Top Free বাটনে ক্লিক করতে হবে। যে সব অ্যাপস ফ্রি ডাউনলোড করা যাবে শুধু সেগুলো দেখা যাবে। তবে এভাবে শুধুমাত্র এন্ড্রয়েড ফোন থেকেই ডাউনলোড করা যাবে। এটা মূলতঃ ডাউনলোড নয়, এভাবে অ্যাপসটি আপনার ফোনে সরাসরি ইন্সটল হয়ে যাবে। কম্পিউটার থেকে সহজে এই কাজটি করার পদ্ধতি নিচে দেয়া হল।

কম্পিউটার থেকে এন্ড্রয়েড অ্যাপস ইন্সটল করার পদ্ধতি (Install Android Apps Through Computer)

  • প্রথমে আপনার ফোনের ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে নিন। দুইটিতেই ইন্টারনেট কানেকশন থাকা বাধ্যতামূলক। ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশন দেয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই কানেকশন (ওয়াই-ফাই জোন) থাকাই ভালো। কেননা আমাদের মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেট কানেকশন অনেক দূর্বল হয়, স্পীড কম থাকে এবং মাঝে মাঝেই ডিসকানেক্ট হয়ে যায়।
  • এরপর আপনার ফোন থেকে জিমেইল (Gmail) বা গুগল (Google) লগ-ইন করতে হবে। লগ-ইন হয়ে গেলে এক্সিট (Exit) না দিয়ে সরাসরি বের হয়ে আসুন (অথবা না বের হলেও ফোনে আর কোনো কাজ না করাই ভালো)।
  • এরপর কম্পিউটার দিয়েও জিমেইল (Gmail) বা গুগল (Google) লগ-ইন করতে হবে। এখানে লক্ষনীয় যে, আপনি যে গুগল বা জিমেইল একাউন্ট দিয়ে ফোনে লগ-ইন করেছিলেন, ঠিক ঐ একাউন্ট দিয়েই কম্পিউটার থেকে লগ-ইন করতে হবে।
  • কম্পিউটারে যে ব্রাউজার থেকে গুগল লগ-ইন করেছে, ঐ ব্রাউজার থেকে google.com –এ প্রবেশ করে Play তে ক্লিক করুন।
  • এখানে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে টপ ফ্রি তে ক্লিক করুন। এবার যে অ্যাপ টি আপনার পছন্দ হয় সেটিতে ক্লিক করলে সবুজ রঙের বক্সে ইন্সটল (INSTALL) লেখা আসবে। ইন্সটল বাটনে ক্লিক করে যে উইন্ডো আসবে সেটির নিচের দিকে দেখুন লেখা আসবে ডিভাইস – ফোন (phone)। এবার কনফার্ম/ ইন্সটল বাটনে ক্লিক করলে লেখা আসবে “Congratulations! ___ (অ্যাপস টির নাম) will be installed on your device soon.”  এখানে OK করলে কিছুক্ষন পরে দেখবেন আপনার ফোনে অ্যাপস টি ইন্সটল হচ্ছে।
  • এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, যদি আপনার নির্বাচিত অ্যাপস টি আপনার ফোনে চলার মত না হয় বা ঐ অ্যাপস আপনার এন্ড্রয়ের ভার্শন সাপোর্ট না করে, তবে যখন আপনি অ্যাপস টি সিলেক্ট করবেন তখনই INSTALL বাটনের নিচে “This app is incompatible with your device.” লেখাটি দেখতে পারবেন।
  • এভাবে অ্যাপস ইন্সটল করলে আপনার ফোনের ব্যাটারিও কিছুটা বাচাতে পারবেন এবং আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং খরচও বেচে যাবে।

এন্ড্রয়েড ফোনের রুট কি? (What is Root of Android?)

রুট (Root) শব্দটা এসেছে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। লিনাক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাদের রুট প্রিভিলেজ বা সুপারইউজার পারমিশন আছে তাদেরকে রুট ইউজার বলা হয়। এন্ড্রয়েড তৈরি হয়েছে লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম থেকে। এন্ড্রয়েড ডিভাইসে রুট পারমিশন মানে সিস্টেম ফাইল এডিট করার পারমিশন আদায় করাকে রুট করা বলে। এটাকে ফোন হ্যাক করাও বলা যেতে পারে।

এন্ড্রয়েড ফোনে রুট না থাকার কারন (Why Android Root is not given)

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ফোনের কেন এডমিনিস্ট্রেটর পারমিশন “আদায়” করে নিতে হবে? কেন ইচ্ছা করলেই একটা ফাইল ডিলিট করতে পারবেন না? উত্তরটা অনেকটা এভাবে দেয়া যেতে পারে- ফোন ম্যানুফ্যাকচাররা আপনাকে অনেক সুবিধা দিলেও কিছু সুবিধা/পারমিশন তারা দেয় না। এটা করা হয় আপনার ভালোর জন্যই। কারণ আগে থেকে আপনাকে ফোনের মধ্যে যা ইচ্ছা তাই করার অনুমতি দেওয়া থাকলে দেখা যাবে আপনি গুরুত্বপূর্ণ একটা ফাইল ডিলিট করে ফেলতে পারেন, অথচ আপনি শুধু চেয়েছিলেন আপনার ফোন মেমোরি বাড়াতে বা অন্য কিছু করতে। এছাড়া আপনি কাস্টমাইজ করতে গিয়ে বা রম ইন্সটল করতে গিয়ে ভুল করলে ফোন ব্রিক (নষ্ট) করে ফেলতে পারেন। এছাড়া ভাইরাস বা ম্যালওয়ারের কিছু ঝামেলা হতে পারে। কারণ রুট পারমিশন পেলে আপনি যা ইচ্ছা তাই ইন্সটল করতে পারেন, যার কারণে ম্যালওয়ার ফোনে ঢুকে পড়তে পারে।

ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্স (Open Handset Alliance)

৫ই নভেম্বর, ২০০৭ সালে ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্স সূচনা করে যাতে ছিল ব্রডকম কর্পোরেশন, গুগল, এইচটিসি, ইন্টেল, এলজি, মার্ভেল টেকনোলজি গ্রুপ, মটোরোলা, এনভিডিয়া, কোয়ালকম, স্যামস্যাঙ ইলেক্ট্রনিকস, স্প্রিন্ট নেক্সটেল, টি-মোবাইল এবং টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্ট। ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্সের উদ্দেশ্য হল মুক্ত ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট প্লাটফর্ম তৈরী করা। একই দিনে, ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্স তাদের প্রথম পন্য এন্ড্রয়েড ছাড়ে যা লিনাক্স কারনেল ২.৬ এর উপর ভিত্তি করে তৈরী।

৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে, আরো ১৪ নতুন সদস্য যোগ দেয় যাতে ছিল এআরএম হোল্ডিংস, এথিরস কমিউনিকেশনস, আসুসটেক কম্পিউটার ইনকর্পোরেট, জারমিন লিমিটেড, হাওয়াই টেকনোলজিস, প্যাকেটভিডিও, সফটব্যাংক, সনি এরিকসন, তোসিবা কর্পোরেশন এবং ভোডাফোন গ্রুপ।

এন্ড্রয়েড (Android) কি ? জেনে নিন এন্ড্রয়েড (Android) এর বিস্তারিত

এন্ড্রয়েড লাইসেন্স (Android License)

এন্ড্রয়েড পাওয়া যেত ওপেন সোর্স লাইসেন্সের আওতায় ২১শে অক্টোবর ২০০৮ সাল পযর্ন্ত। এরপর গুগল তাদের পুরো সোর্স কোড ছাড়ে এপ্যাচি লাইসেন্সের আওতায় । গুগল তাদের প্রকাশিত কোডগুলোকে উন্মুক্ত করে সবার দেখার এবং মন্তব্য করার সুযোগ দেয়। যদিও সফওয়্যারটি উন্মুক্ত, তবুও মোবাইল প্রস্ততকারকরা এন্ড্রয়েড ব্যবহার করতে পারবে না কারণ গুগলের ট্রেডমার্ক করা অপারেটিং সিস্টেমের কপি গুগল সার্টিফিকেট প্রদান করার আগ পযর্ন্ত কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।

এন্ড্রয়েড ফোনের বর্তমান প্রেক্ষাপট (Present Perspective of Android Phone)

হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট এসেছে সে তো অনেকদিনের কথা। কিন্তু সম্প্রতি স্মার্টফোন যেভাবে ইন্টারনেটের নতুন গতি ও ব্যবহার এনে দিয়েছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। আর এই স্মার্টফোন জগতেই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে এন্ড্রয়েড (Android) এবং আইওএস (iOS)।

স্মার্টফোন জগতে বর্তমানে রাজত্ব করছে এন্ড্রয়েড। মূলত বিভিন্ন দামের ও আকার-আকৃতির এবং ব্র্যান্ডের কাছ থেকে এন্ড্রয়েড-চালিত স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ায় বাজারে এর গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে গেছে বহুদূর। আজ প্রায় সব ধরনের বাজেটেই রয়েছে কোনো না কোনো এন্ড্রয়েড ফোন। ইন্টারনেট মহারাজ গুগলের তৈরি এই এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম শুরুতে মোবাইল ফোনের জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমানে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলছে নেটবুক, ট্যাবলেট ও গুগল টিভিতে (এ টিভিতে গুগলের সব ধরনের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা আছে এবং এর পাশাপাশি ভিডিও দেখার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবের ভিডিও সরাসরি দেখা যায় এ টিভিতে)। আগামীতে এই এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম রোবট চালনার কাজেও ব্যবহৃত হবে, এমন আভাস গুগল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে।

#Collected

Leave a Reply