গুগোল এডসেন্স কি, এপ্রুভাল, ব্যবহার ও গুগোল এডসেন্স এর কিছু টিপস

গুগোল এডসেন্স কি? গুগোল এডসেন্স (Google Adsense) এমন একটা রাজহাঁসের নাম, যেটাকে ঠিকমত যত্ন করতে পারলে হাঁসটি নিয়মিত সোনার ডিম দেয়। সোনার ডিমের সাইজ যত্নের উপর নির্ভর করে, যত সঠিক নিয়মানুসারে যত্ন করা যায়, ডিমের আকার ততই বড় হয়। আমি কিন্তু নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট এর কথা বলচ্ছি। হ্যা, হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট ও মূল্যবান তবে সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁসের মত মূল্যবাদ নয়।

আসলে এডসেন্স হচ্ছে, একটি পাব্লিশার প্ল্যাটফর্ম যারা বিভিন্ন মান সম্পন্ন ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন পাব্লিশ করে থাকে এবং এর মালিকানাধীন কোম্পানি হচ্ছে গুগোল। আর এক কথায় গুগোল এডসেন্স এর এত নামডাক বা জনপ্রিয়তার কারণ হচ্ছে, সর্বোচ্চ রেভিনিউ শেয়ার বা লভ্যাংশ ভাগ দেয়া, কন্টেন্ট রিলেটেড বিজ্ঞাপন, গুগোলের অন্যান্য প্রোডাক্টস এর সফলতা ও সামঞ্জস্যতা আর একাউন্ট দেয়ার আগে ওয়েবসাইট/ব্লগের মান যাচাইয়ের সর্বোচ্চ মানদন্ডের ব্যাবহার।

সর্বোচ্চ রেভিনিউ শেয়ারঃ সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অন্যের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। এখানে গুগল এডসেন্স আসলে মধ্যমা (দালাল) হিসাবে কাজ করে। গুগোল অন্য কোম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন এর অর্ডার সংগ্রহ করে এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়েবসাইট/ব্লগে পাবলিশ করে এবং লাভের প্রায় ৭০ শতাংশই এডসেন্স একাউন্টের মালিক কে দিয়ে দেয়। এটাই হচ্ছে রেভিনিউ শেয়ার, যেখানে অন্য এডসেন্স ক্যাটাগরির কোম্পানি (এডসেন্স অল্টার্নেটিভ) অপেক্ষাকৃত অনেক কম লভ্যাংশ দিয়ে থাকে।

গুগোল এডসেন্স কি, এপ্রুভাল, ব্যবহার ও গুগোল এডসেন্স এর কিছু টিপসকন্টেন্ট রিলেটেড বিজ্ঞাপনঃ এই কাজে গুগোলের থেকে পটু আর কাউকে দেখি নাই। গুগোল কন্টেন্ট রিলেটেড বা ভিজিটর’এর ইন্টারেস্ট এর ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেখায়। এতে ভিজিটরের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সম্ভাব্যতা বারে ও এডসেন্স একাউন্ট হোল্ডারের বেশি লাভ হয়।

অন্য প্রোডাক্টস এর সাথে সামঞ্জস্যতাঃ গুগোলের অন্যতম জনপ্রিয় সার্ভিস হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন, জিমেইল, ইউটিউব, ব্লগস্পট যেগুলো প্রায় সম্পূর্ণ সফল এবং ওয়েবমাস্টার দের জন্য গুগোল ওয়েবমাস্টার টুল, গুগোল এনালাইটিক্স যেগুলো এডসেন্স এর কমন ফিচার গুলোর সাথে অনেকাংশে ইন্টাররিলেটেড বা যুক্ত।

গুগল এডসেন্স এর গুণাবলী মূলত এগুলাই। তবে, আমার মনে গুগোল এডসেন্স কে কিছুটা ওভাররেটিং দেয়া হয় অর্থাৎ, যা সুবিধা, তার থেকেও অনেক বেশি বাড়িয়ে বলা হয়। কেউ আবার এটাকে সোনার হরিণ, আমিও বলেছি, সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁস ইত্যাদি।

তবে হ্যা, গুগোল এডসেন্স পাওয়া কিছুটা কঠিন কারণ, স্ট্যান্ডার্ড বা নূন্যতম মানের ওয়েবসাইট/ব্লগ সাইট ছাড়া গুগোল এখন আর গুগোল এডসেন্স একাউন্ট দেয় না, তবে একাউন্ট পাওয়া অসম্ভব না। বেসিক কিছু টার্ম আছে এডসেন্স পাওয়ার, সেগুলো পূরণ করতে পারলেই এডসেন্স পাওয়া সম্ভব।  আমি অনেককে দেখেছি, রাবিশ, বোগাস টাইপের ওয়েবসাইট নিয়ে এডসেন্স এপ্লাই করতে, আর না পাওয়ার পর ‘খুব কঠিন’, হ্যাত ত্যান বলে চিল্লাপাল্লা করতে।

আমি শুধু বেসিক রিকোয়ার্ম্যান্ট গুলোর কথা বলব, যা যা মিনিমাম দরকার আপনার গুগোল এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার জন্য, তার পাশাপাশি একাউন্ট ম্যান্টেইন, একাউন্টের ভেতরের কিছু খুঁটিনাটি CPM, RPM ইত্যাদি, কিভাবে ব্যাবহার আর টাকা উত্তোলনের পন্থা গুলো। তো শুরু করিঃ

একটা মিনিমাম ভাল মানের ওয়েবসাইট বা ব্লগঃ এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার ১মম শর্তই হচ্ছে একটা ভাল মানের ওয়েবসাইট না ব্লগ। তো, ‘ভাল মান’ বলতে কি বোঝায়? দেখতে সুন্দর? প্রচুর ভিজিটর? সুন্দর নাম? নাহ, ভাল মান বলতে বোঝায় ইউনিক কন্টেন্ট। আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট অবশ্যই কপি/পেষ্ট বা ইল্লিগাল কন্টেন্ট হতে পারবে না। কন্টেন্ট হতে পারে ইমেজ, টেক্স,  সফটওয়্যার, অডিও, ভিডিও বা যে কোন কিছু।

নিজস্ব ডোমেইনঃ ওয়েবসাইটের অবশ্যই একটি নিজস্ব ডোমেইন থাকতে হবে। আপনি চাইলে ফ্রি হোস্টিং এর ব্লগার প্ল্যাটফর্ম বা ওয়ার্ডপ্রেস এর ফ্রি ব্লগ প্ল্যাটফর্ম ব্যাবহার করতে পারেন, তবে কাষ্টম TLD (Top Level Domain) থাকতে হবে যেমনঃ careersourcebd.com exampl.com এমন। সাব ডোমেইন না হলেই ভাল হয়। প্রয়োজনে কিভাবে গুগোল ব্লগস্পট প্ল্যাটফর্ম এ কাষ্টম ডোমেইন এড করতে হয় তা দেখে নিতে পারেন।

এফিলিয়েট ও পর্ণঃ সাইটে কোন এফিলিয়েট লিঙ্ক থাকতে পারবে না। কারণ, আমার একটা সাইটে এক জনপ্রিয় সাইটের এফিলিয়েট লিঙ্ক থাকার কারণে ঐ সাইটের জন্য এক্টিভ এডসেন্স সাসপেন্ড হয়েছিল। নিউডিটি কন্টেন্ট বা পর্ণ থাকা যাবে না। হোক সেটা সফট।

অন্যান্য যা থাকা যাবে নাঃ এলকোহল সম্বন্ধীয় সাইট/ব্লগ, যা এগুলাকে প্রোমোট করে। যে কোন ধরনের মাদক এমনকি সিগারেট কে প্রোমোট করে, এমন সাইট। কোন জাতী বা গোষ্ঠি বা ব্যাক্তিকে আক্রমণ করে লেখা ব্লগ। অস্ত্র বা যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কিত সাই, যা এসবের প্রেরণা যোগায়।

ওয়েবসাইট এর বয়সঃ সাইটের বয়স অন্ততপক্ষে ৬ মাস বা ১ বছর হতে হবে। আমার হিসেবে, ডোমেইন এড করার পর থেকে ১ বছর বা কাছাকাছি সময়ের পুরান ওয়েবসাইট/ব্লগ হওয়া ভাল।

আরো কিছু ছোটখাট অলিখিত শর্ত হয়তোবা আছে, এই মুহূর্তে মনে আসতেছে না। পরে এডিট করে দিব, যদি থাকে।

এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন

আপনি উপরের সবগুলো শর্ত পূরণ করে থাকলে, এবার এডসেন্স একাউন্ট এর জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন করার সময় কিছু জিনিস খেয়াল রাখা খুবই জরুরী।

সঠিক নাম ও ঠিকানাঃ  আগে এডসেন্স একাউন্ট এর ব্যাঙ্ক একাউন্ট যোগ করা যেত না (আমার বাংলাদেশী একাউন্টে যেত না), চেক আসতো, ইসলামী ব্যাঙ্ক থেকে চেক ভাঙ্গাতে হতো। ইসলামী ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য কোন ব্যাঙ্ক এই চেক নিতে চাইতো না বা নিত না। আর এখন ব্যাঙ্ক এড করা যায়, তাই আপনার  একাউন্টের নামের সাথে ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর নাম হুবহু একই হওয়া জরুরী।

পূর্বে এপ্লাই করে থাকলেঃ  যদি পূর্বে এপ্লাই করে থাকনে, তবে নতুন একাউন্ট ব্যাবহার না করে, সেই একাউন্ট ব্যাবহার করাই ভাল।  দুই একাউন্ট এর তথ্য হুবহু মিলে গেলে এডসেন্স পাবেন না। বলবে, এই নামে আগের এপ্লাইন করা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি পুরাণ একাউন্ট তদিয়ে যত আকাজই করে থাকেন না কেন বা যতবারই ডিসএপ্রুভ হয়ে থাকেন না কেন, কোন সমস্যা নাই।

এডসেন্স এপ্রুভাল না হলে

এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ না হলে আপনার ৩টি আপশন আছে।

১। এডসেন্স এর আশা ছেড়ে দেয়া।

২। ফিরতি ইমেইল ভালভাবে পড়ে, ভুলগুলো ফিক্স করে, একই গুগোল একাউন্ট থেকে আবার এপ্লাই করা।

৩। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য গুগোলের হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট এর জন্য আবেদন করা।

আর যেনে রাখা দরকার যে, গুগোলের হোস্টের এডসেন্স একাউন্ট আসলে গুগোলের হোস্ট করা সাইট যেমন ইউটিউব ও ব্লগস্পটে ব্যাবহারের জন্য।  আমার জানামতে এই একাউন্ট থেকে বাইরের সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়া যায় না, তবু দেয়ার সিস্টেম শুনছি আছে 😉

এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার পর

এডসেন্স এপ্রুভাল যদি হয়েই যায়, তবে মাথা নষ্ট করার কিছু নাই। শান্ত থাকুন এবং

শুধুমাত্র ভাল সাইটে এড বসানঃ কোয়ালিটি সাইট, যেই ধরনের সাইট থেকে আপনি এডসেন্স একাউন্ট পেয়েছেন, শুধু সেই ধরণের ভাল মানের সাইটে এড বসান। ভুলেও ক্রেক বা এই ধরনের সাইটে এড বসাবেন না, এতে একাউন্ট খোয়া যেতে পারে সহসাই।

নিজে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন নাঃ ভুলেও এডসেন্স এর বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন না। গুগোলের খুব স্ট্রং টার্ম (নিয়ম) হচ্ছে, নিহের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক না করা। আপনি প্রক্সি দিয়েও ক্লিক করার চিন্তা করবেন না, ভার্সিটির অইসি থেকেও ক্লিক দিবেন না। এই ধরনের কাজ করে রাজহাস জবাইকারি লোক নেহায়েত কম না।

কাউকে দিয়ে ক্লিক করাবেন নাঃ হতে পারে আপনার কোন বন্ধু, সে চায় আপনার একাউন্টে টাকা আসুক। এই চিন্তায় সে আপনার সাইটে ঢুকে বিজ্ঞাপনে ইচ্ছামত ক্লিক দিল। এই ধরনের কাজে একাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও বন্ধুর ইচ্ছা ছিল উপকার, কিন্তু আপনি খেয়ে যাবেন বাঁশ। তেমনি কোন শত্রু আপনার ক্ষতি করার জন্যও এমন করতে পারে। এই কারণে কাউকে কিছু না বলাই ভাল। 😉

ভিজিটরদেরকে ক্লিক দিতে প্ররোচিত করাঃ আমার এক বন্ধু তার এডসেন্স এর বিজ্ঞাপনের লিঙ্ক কপি করে, সরাসরি সাইটে ক্লিকেবল লিঙ্ক হিসেবে বসিয়ে দেয় ডাউনলোড বাটনে। খুব দ্রুত তার একাউন্টে টাকা জমা হয়। তারচাইতেও দ্রুত তার একাউন্ট সাসপেন্ড হয়।

বুঝা গ্যাছে ব্যাপার টা? 😛

কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

একটা একাউন্ট থেকে কয় সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে? – যত ইচ্ছা তত।

এডসেন্স এ ক্লিক না পরলে কি টাকা পাওয়া যেয়? – প্রতি ১০০০ ভিজিটে কিছু পয়সা দেয় সম্ভবত।

আমি কি অন্য দেশের ঠিকানা দিয়ে এডোসেন্স খুলতে পারব? – হ্যা, পারবেন, দ্রুত একাউন্ট পেয়েও যাবেন।

অন্য দেশের নাম ঠিকানা দিয়ে খুললে কোন অসুবিধা আছে? – টাকা আয় না হলে গুগোল কিছু বলবে না, কিন্ত আয় হলে গলায় পারা দিয়া ধরবে।

আমার কিছু ডোমেইন আছে, আমি কি পার্কিং করতে পারব? – আমার জানামতে এডসেন্স ফর ডোমেইন ফিচার টা আর নাই।

আরো জমবে, যদি প্রশ্ন করে কেউ।

এডসেন্স থেকে অর্থ উত্তোলন

প্রতি ১০০ ডলার হওয়ার পর আপনি টাকা তুলতে পারবেন বা গুগোল আপনার লিঙ্ককৃত ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিবে। এই দিক থেকে গুগোল এডসেন্স অনেক ভাল।

Leave a Reply