টার্গেটেড লিড বৃদ্ধির ১৪ টি সফল উপায়

হাজার হাজার টাকা খরচ করে, অনেক সুন্দর করে একটা ওয়েবসাইট বানাইছেন। সাইটে দেখে, আপনার মনের জানালা দিয়ে ভেন্টিলেটরের হাওয়া শুরু করে। কিন্তু, টার্গেটেড লিড বৃদ্ধি  না পাওয়ায় আপনার এখন অবস্থা এখন সজোরে দৌড়ে আইসে ডেড বল করার মত। কোন লিড নেই। মাথা খারাপ হয়ে গেছে আপনার। আপনার অবস্থা এখন ঠিক উপরের ভিডিও টার মত। ভাই, চিন্তা কইরেন না।
আমি আপনাকে টার্গেটেড লিড বৃদ্ধির কিছু ভাল মানের লজিকাল রাস্তা দেখানোর চেষ্টা করব। আমার মনে হয়, রাস্তা গুলা দেখার পর, আপনার হতাশা কমে যাবে। মনেহবে, “না, এখনো অনেক কিছু করার আছে।” আপনার এত স্বাদের কোম্পানি যেন শুধু স্বপ্ন না, থাকে এই জন্য চেষ্টা করব। তাহলে চলেন শুরু করা যাকঃ

ব্লগঃ

আপনি হয়ত ইতি মধ্যে শুনে ফেলছেন ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর প্রথম এবং অবশ্যই করতে হবে, এমন সব রুলসের মধ্যে প্রথম হল “নিয়মিত ব্লগ দেয়া।”

মনে করেন, ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগিন সেল করছেন। কিন্তু, আমি আপনার সাইটে যেয়ে দেখলাম শুধু প্রডাক্ট রেখে দেয়া আছে। এখন,আমার মনে হতেই পারে যার প্রডাক্ট ক্রয় করতে আসছি, তার কোয়ালিটি কেমন। এইটা প্রমাণ করার এক মাত্র সুযোগ হল নিয়মিত ব্লগ। যখন, কেউ আপনার সাইটে এসে দেখবে আপনি নিয়মিত লেখালিখি করে এবং লেখা গুল অনেক সুন্দর। এই বিষয়টা আপনার কাস্টমারের কাছে বিশ্বাস অর্জন করতে সহয়তা করবে।

অনেক সময় দেখা যাবে, কোন ভিজিটরের এখন ঐ প্রোডাক্ট কিনবে না। কিন্তু প্লান আছে, ভবিষ্যতে কিনবে। তখন সে যদি এসে দেখতে পায়, আপনার লেখার মান অনেক ভাল। কোন চিন্তা না করেই, মেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করবে। এই বিশ্বাস এক দিন, এই ভিজিটরকে বিশ্বাসী কাস্টমারে পরিণত করবে। যা আপনি প্রত্যেক দিন ঘুমায় ঘুমায় চিন্তা করেন।

টার্গেটেড লিড বৃদ্ধির ১৪ টি সফল উপায়

কল টু এ্যাকশানঃ

আমি যে দিন প্রথম নেইল পাটেল এর ব্লগ ভিজিট করি, সেই দিন আমি অদ্ভুত পপ-আপ-উইন্ডো। পরে ব্রায়ান ডিনের ওয়েবসাইটেও ঠিক প্রায় একই রকম দেখছিলাম। আপনার যদি কোন অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে এখন একবার দেখে আসতে পারেন।

প্রথম দেখাতে একটু বিরক্ত লাগলেও, প্ল্যানটা এখনো আমার কাছে সব থেকে ভাল মনে হয়। আপনি যদি ঠিক ঐ রকম করতে চান তাহলে করতে পারেন। তবে, কালারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন। এই জন্য আপনি একটা কাজ করতে পারনে। কয়েকটা কালারের বানাতে পারেন। পরে যেটা ভাল করবে। ঐটা রেখে দিলেন।

আপনার যদি ঐ স্টাইল পছন্দ না হয়, তাহলে আপনার মত করে করতে পারেন। তবে, অবশ্যই টেস্ট করে দেখুন কোনটা ভাল কাজ করছে। সবার পছন্দ জানা সমভাব নয় এবং সবার মনের মত করে আপনি বানাতে পারবেন না। আপনি এই খানে সব থেকে যেইটা ভাল কাজ করবে, ঐটা রেখে দেন।

লজ্জা পান কেনঃ

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, লজ্জা পেলে মার্কেটিং করা আপনার জন্য একটু কষ্ট হয়ে যাবে। মনেকরেন, আপনার প্রোডাক্ট অনেক ভাল কিন্তু কাস্টমারের সামনে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বললেন “বস, মাল ভাল আছে নিতে পারেন।” কিন্তু, পাশের দোকানের একজন তার প্রোডাক্টের ফিচার গুল সুন্দর করে সামনে রেখে দিয়ে, ক্রেতাদের বোঝানর চেষ্টা করছে।

আমি, আপনি সবাই জানি কার প্রোডাক্ট সব থেকে বেশি সেল হবে। আপনি যদি ওয়েবসাইটের মাধ্ম্যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ভাল ভাবে বোঝানর চেষ্টা করেন।

আমি অনেক সময় কোন কোন সাইটে মেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করতে গেলে, কনফীউসড হয়ে যাই। যদি মেইল অন্য কোন জায়গায় সেল হয়ে।

এই দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য আপনি নেইল পাটেল এবং সৈয়দ বালখির ব্লগ গুল দেখতে পারেন। তাহলে বুঝতে পারবেন, এই ব্যাপার গুল কি ভাবে নিশ্চিত করা যায়।

কাস্টমারের কাছ বিশ্বাস অর্জন করার জন্য যা যা করা লাগে, আপ্রান চেষ্টা করেন সেই কাজ গুল আগে করার।

মেইলঃ

মেইলের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার বাটান যোগ করে দিতে পারেন। আপনার কোন মেইল যদি তার ভাল লাগে, তাহলে সে ইচ্ছা করলে তার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবে।

কোন মেইল যদি তার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে, তাহলে নতুন সবস্ক্রাইবার পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যাবে।

প্রমো ভিডিওঃ আমার এক পরিচিত বন্ধু আছে, যে আমার লম্বা লম্বা আর্টিকেল গুল দেখে আমাকে প্রশ্ন করছিল “তুই, আর্টিকেল গুল একটু ছোট করে লেখ, আমার তিন মিনিটের বেশি ধৈয্য থাকে না”। পরে অবশ্যই, আমি কেন এই বড় বড় আর্টিকেল লিখি তার জন্য আর একটা লম্বা আর্টিকেল লিখে রাখছি।

আপনার কাস্টমারের মধ্যে অনেকই আমার বন্ধুর মত আছে। তাদের জন্য আপনি ভিডিও তৈরি রাখতে পারেন।

ভিডিও গুল আপনি ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব (২য় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন), ফেসবুক শেয়ার করে দিলেন।

কিন্তু, কথা হল কি ভাবে একটা ভাল মানের ভিডিও বানাবেনঃ

  • ভিডিও ছোট রাখেন, কিন্তু অতি ছোট যেন না হয়। প্রমোশনাল ভিডিও এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে হলেই ভাল হয়।
  • ভিডিও তে যত সুন্দর করে পারেন প্রোডাক্ট/সার্ভিস সম্পর্কে বর্নানা করেন
  • একজন মানুষ কখন সব কিছুতে ভাল হবে, এমন কোন কথা নেই। আপনি যদি ভাল ভিডিও তৈরি করতে না পারেন, তাহলে কাজটা কোন প্রফেশনাল কে দিয়ে দিন।

অপশন অনেকঃ

আপনি যদি এখন মার্কেটে কোন জিনিস কিনতে যান, তাহলে দেখবেন প্রোডাক্টের অভাব নেই। আপনি যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করছেন, একটু সময় নিয়ে খোঁজা খুঁজি করলেই দেখবেন আপনার অনেক ভাল মানের কম্পিটিটর আছে। তাদের সাথে কম্পিট করতে গেলে, আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণে পরিশ্রম করা লাগবে। যেহেতু, আপনার কাস্টমারের কাছে এখন অনেক অপশন আছে তাহলে কেন সে আপনার কাছ থেকে সার্ভিস/প্রোডাক্ট কিনবে।

আর প্রথমবার সাইটে এসেই যে, কাস্টমার হয়ে যাবে এমন টা আসা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। আপনি এই ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য একটু এক্সট্রা সার্ভিসের ব্যভস্থা করতে পারেন।

যেমন, আপনার সাইটের পোস্ট করা সব লেখা গুল নিয়ে একটা বই ডাউনলোড করার অপশন রাখতে পারেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে শুধু মাত্র মেইল এড্রেস নিবেন। এখন, আপনার কাজ হল নিয়মিত তাদেরকে নতুন নতুন কোন কিছু উপহার দেয়া। কি ভাবে সাবস্ক্রাবারকে বিরক্ত না করে, ভাল কিছু দেয়া যায় এইটা জানার জন্য আপনি নীল পাতিলের ব্লগে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।

সিকিউরিটিঃ

নতুন কোন সফটওয়্যার যখন ইন্সটল করতে যাই, তখন ভাবি “যদি হ্যাকিং টুলস হয়”। এই প্রবলেম নতুন কোন সফটওয়্যার মার্কেটে আসলে অনেক ঝামেলাতে ফেলে দেয়। আর আপনার লাইফে যদি হ্যাকিং এর কোন অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে ঝামেলা আরো বেশি। এই জন্য প্রোডাক্টের সাথে সিকিউরিটি সিল দিয়ে দিতে পারেন। দেখবেন, কনভার্সন রেট আগের থেকে অনেক বেড়ে যাবে।

ফর্ম ছোট রাখেনঃ শুধু মাত্র নাম, মেইল এড্রেস ছাড়াও আপনার আরো অনেক কিছু লাগতে পারে। এই জন্য আপনি একটা ফর্মের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। তবে, চেষ্টা করেন ফর্ম যত ছোট রাখা যায়। বেশি বড় ফর্ম আবার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কনফারেন্সঃ

ভাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য কনফারেন্স একটা গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পাল করে। আপনার বিইজনেস ফিল্ডের সাথে যায় এমন কোন কনফারেন্স যদি হয় তাহলে চেষ্টা করেন যোগ দেয়ার জন্য। আপনি সেখানে নিজেই একজন বক্তা হতে পারেন অথবা ঐ খানে যে বক্তব্য রাখছে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস প্রমোট করার জন্য।

গুরুদেব বলছেঃ

গুরু দেব বলছে এই প্লানটা লিংকবিল্ডিং এ খুব কাজে দেয়। তবে আপনি ইচ্ছা করলে ব্যবহার করতে পারেন। এই খানে, আপনার বিজনেসে ফিল্ডে কোন একজন এক্সপার্ট কে খুঁজে বের করেন, এর আপনার প্রোডাক্ট ফ্রী তাকে ব্যবহার করতে দেন। যদি ভাল লাগে তাইলে যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটু শেয়ার করে দেয়। ব্যাস, হয়ে গেল আপনার প্রোডাক্টের প্রমসন।

হাতে হাত ধরি ধরিঃ আপনি যদি অন্যকোন ভাল সাইটে গেস্ট পোস্টিং করতে পারেন, তাহলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে যাবে। ঐ সাইটের মালিকের সাথে একটা ভাল সম্পর্ক, সাথে সাথে সেল। এই গেস্ট পোস্টিং এর অপশন আপনি ইচ্ছা করলে আপনার সাইটেও রাখতে পারেন। ভাল ফলাফল পাবেন।

চলে যাবেন?

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, ৭০% ভিজিটর আপনার সাইটে আর ফিরে আসবে না। তার মানে হল, ৯০% বিনিয়োগ আপনার জলে যাবে। এই কথা শোনার পর, আপনার মাথা হয়ত হাং হয়ে যাবে। কখন কখন কোন সাইটের ট্যাব কেটে দেয়ার সময় একটা লিভিং ম্যাসেজ শো করে। আপনি ইচ্ছা করলে, এই ধরনের পপআপ ব্যবহার করতে পারেন।

টার্গেটেড লিড বৃদ্ধির ১৪ টি সফল উপায়

ল্যান্ডিং পেজঃ

ল্যান্ডিং পেজের কথা মাথায় আসলে আমার শুধু অ্যাপেলের ল্যাপ্টপের কথা মনে পড়ে। কি সুন্দর, কোন রং ঢঙ্গ নেই কিন্তু কি অসাধারণ। আপনার ল্যান্ডিং পেজ হওয়া উচিৎ ঠিক ঐ রকম। যত পারেন সিম্পিল রাখেন। ল্যান্ডিং পেজে কোন ন্যাভিগেশন মেনু রাখার দরকার নাই।

টেস্টিমোনিয়ালঃ

রিভিউ এবং টেস্টিমনিয়ালের অপশন ভাল লিড আনতে সাহায্য করে। আপনার নিসের কোন এক্সপার্ট যদি, আপনার প্রোডাক্টকের উপর টেস্টিমনিয়াল দেন তাহলে এইটা অনেক কাজের। আর, আপনি একটা অপশন রাখতে পারেন, কাস্টমার যদি প্রোডাক্টের রিভিউ তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে তাহলেও ভাল কাজে দিবে।

সব কাস্টমার হয়ত, সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে রাজি হবে না। এই জন্য আপনি প্রমসনের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

প্রশ্নঃ

সোশ্যাল মিডিয়া গুলতে এখন সার্চ অপশন থাকে। আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কি আলোচনা হচ্ছে, এইটা আপনি ইচ্ছা করলে বের করতে পারে। আপনার কাস্টমার মনে কি কি প্রশ্ন আছে, ঐ গুল এক জায়গায় করে উত্তর দিতে পারেন।

মোবাইল ক্যাম্পেইনঃ

আপনি যদি গুগলে কিওয়ার্ড প্লানার ব্যবহার করতে থাকেন, তাহলে দেখবেন কোন কিওয়ার্ডে কোন ডিভাইস থেকে কি পরিমাণে সার্চ আসে এইটা দেখার অপশন আছে। কোন ক্যাম্পেইন করার সময় মনে রাখবেন ডেক্সটপ থেকে মোবাইলের ইন্টারফেস আলাদা।

আপনার সেল ফোনের টাইপিং স্পিড, আর মোবাইলের টাইপিং স্পিড কিন্তু সমান না। এই ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।

এ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামঃ

কোন ধরনের খরচ ছাড়াই যদি মার্কেটিং করতে চান, তাহলে এ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হল সব থেকে ভাল অপশন। আপনার প্রোডাক্ট যদি অনেক ভাল মানের হয় তাহলে এইটা আপনার জন্য সব থেকে ভাল অপশন। এই প্রগ্রামের সব থেকে ভাল সুবিধা হল, প্রোডাক্ট সেল না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে কোন পে করা লাগবে না।

সব শেষে কথা একটাই, প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যদি ভাল হয় তাহলে আপনাকে সেল নিয়ে চিন্তা করা লাগবে না। মার্কেটিং করার আগে, প্রোডাক্টের কোয়ালিটি নিশ্চিত করেন। সময় পাইলে, অ্যাপেলকে দেখতে পারেন।

Leave a Reply