নিশ কনটেন্ট রাইটিং স্ট্রাটেজি বাংলা টিউটোরিয়াল

নিশ কনটেন্ট রাইটিং স্ট্রাটেজি

নিশ বা এসইও কনটেন্ট লেখা মোটেও কঠিন কিছু নয়। অনেকেই মনেকরেন, নিশ বা এসইও কনটেন্ট লিখতে গেলে কনটেন্টকে প্রপার ওয়েতে ভিজিটর ফ্রেন্ডলি করা যায় না। এটা আসলে সম্পূর্ণ সঠিক নয়। এখানে ২ টা ব্যাপার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ
  • কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি হলে, ভিজিটর ফ্রেন্ডলি নাও হতে পারে।
  • কিন্তু, ভিজিটর ফ্রেন্ডলি হলে, অবশ্যই সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি হবে।
এর মূল কারণ, সার্চ ইঞ্জিন ওই সমস্ত কনটেন্টকে পছন্দ করে, যেগুলো ভিজিটরও পছন্দ করে। সুতরাং, ভিজিটরকে মাথাই রেখে নিশ ব্লগ কন্টেন্ট লিখতে হবে। এক্ষেত্রে, সার্চ ইঞ্জিন একটা কনটেন্ট-এর যে বিষয় গুলোর প্রতি নজর রাখে, ওই বিষয় গুলোর প্রতি খেয়াল রেখে কনটেন্ট লিখতে হবে। তারমানে, নিশ ব্লগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল সঠিক মানের নিশ কনটেন্ট লেখা। নিশ কনটেন্ট লেখার সময় নিচের এই ৮ টা নিয়ম আপনি অনুশীলন করতে পারেন।

নিশ কনটেন্ট রাইটিং স্ট্রাটেজি বাংলা টিউটোরিয়াল

#০১ : নিশ ব্লগ কনটেন্ট মানেই সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লেখা নয়

মনে করুন, “ডায়াবেটিস কি?” এটা একটা কি ওয়ার্ড। এখন আপনি কি “ডায়াবেটিস কি?” এই কিওয়ার্ডকে কনটেন্ট–এর মধ্যে বার বার লিখবেন নাকি ডায়াবেটিস বলতে কি বুঝায় ওটা লিখবেন? ভিজিটর যখন “ডায়াবেটিস কি?” এই কিওয়ার্ডকে গুগলে সার্চ দিবে, তখন আসলে সে জানতে চাইবে ডায়াবেটিস বলতে কি বুঝায়। সুতরাং, ভিজিটর–এর মত করে লেখুন। গুগলে ওই সমস্ত কনটেন্টই সার্চ-এ দেখায়, যেগুলো ভিজিটর–এর তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। কনটেন্ট ভিজিটর-এর তৃষ্ণা মেটাতে পারলে, কনটেন্ট অটোমেটিক সার্চ ইঞ্জিন বা এসইও অপটিমাইজড হয়ে যায়। তাই, লিখুন ভিজিটর-এর জন্য।

#০২ : প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট লিখুন

মনেকরুন, আপনার ভিজিটর “উচ্চ রক্ত চাপ-এর লক্ষ্মণ কি?” এটা জানার জন্য সার্চ দিলো। এখন সে শুধু “উচ্চ রক্ত চাপ-এর লক্ষ্মণ কি?” এটাই পড়বে, অন্য কিছু পড়বে না কারণ সে এটা পড়ার বা জানার জন্যই কেবল এসেছে। তাই অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবেন না। আবার পেজ টাইটেল–এর সাথে যদি কনটেন্ট–এর মিল কম থাকে, তাহলেও ভিজিটর ফিরে যাবে। গুগলের অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট ধরার জন্য কিছু উপায় আছে। একবার গুগলের চোখে ধরা পড়লে, সাইটের র‌্যাংক কমবে আবার ব্যান্ডও খেতে পারেন।

#০৩ : কনটেন্টের শুরুতেই ভিজিটরকে আটকে ধরুন

মনেকরুন, কিওয়ার্ড “অ্যালার্জি যুক্ত খাবার”। কনটেন্ট-এর টাইটেলে এই কিওয়ার্ডটি রাখুন। কনটেন্টটা শুরুও করুন এই কিওয়ার্ডটা দিয়ে। প্রথম দিকে কখনোও কিওয়ার্ড-এর প্রতিশব্দ ব্যবহার করবেন না। ২য় অথবা ৩য় প্যারা থেকে প্রতিশব্দ ব্যবহার শুরু করুন। প্রথমটা সঠিক কিওয়ার্ড দিয়ে শুরু করলে, ভিজিটর নিশ্চিত থাকবে, সে যেটা সার্চ করেছে সেইটাই পেয়েছে। আবার এতে করে কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিন বা এসইও ফ্রেন্ডলি হবে।

#০৪ : কনটেন্ট-এ লিস্ট ব্যবহার করুন, প্যারার পরিবর্তে

নিশ ব্লগ কনটেন্ট-এ সবসময় প্যারার পরিবর্তে লিস্ট ব্যবহার করবেন। এতে কনটেন্ট এসইও সমৃদ্ধ এবং ভিজিটর ফ্রেন্ডলি হয়। প্যারা পড়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ। তাই, অনেকেই এটা পড়তে চায় না। লিস্ট করে লিখলে ভিজিটর অল্প সময়ে টপিকটা সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা পায়।

#05: লিংক-এ অবশ্যই কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন

যদি নিশ ব্লগ হয়, তাহলে লিংক-এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা ফরজ। মনেকরুন, আপনি “টাইপ ০১ ডায়াবেটিস” কে লিংক করেছেন। খেয়াল রাখবেন “টাইপ ০১ ডায়াবেটিস” যেন “টাইপ ০১ ডায়াবেটিস” দিয়েই লিংক হয়। “click here” এই ধরনের কিছু ব্যবহার করবেন না।

#06: সাব-হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করুন

চেষ্টা করুন প্রতিটা সাব-হেডিং ট্যাগ–এ আপনার নির্ধারিত কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে। সাব-হেডিং ট্যাগগুলো সিরিয়ালে ব্যবহার করুন। হেডিং ট্যাগ সাধারণত ১-৬ পর্যন্ত হয়। ৫ এবং ৬ নং ট্যাগ ব্যবহার না করাই ভাল।

#07: নিশ ব্লগ কনটেন্ট-এর আরও কিছু নিয়ম

কিওয়ার্ডকে কয়েকবার কনটেন্ট এর মধ্যে ব্যবহার করুন। ১ বার টাইটেল বা মেইন হেডিং-এ, প্রথম প্যারায় ২ বার, ১ বার করে প্রতিটা সাব-হেডিং-এ, মেটা-ট্যাগ-এ ২ বার, ২-৩ বার ব্যবহার করুন লিঙ্কস-এ, ইমেজে (alt text) ১ বার এবং কনটেন্ট–এর বডিতে ব্যবহার করুন ২-৪ বার। তবে খেয়াল রাখবেন, কি ওয়ার্ড–এর এই ব্যবহার যেন কনটেন্ট–এর ন্যাচারাল ভাবকে নষ্ট করে না দেয়। তাহলে, ভিজিটর পড়ে মজা পাবে না।

#০৮: এডিট, এডিট এবং এডিট

আমি নিজে একটা কনটেন্ট লেখার পর কিছু না হলেও ১০ বার ওটা পড়ি। এই ১০ বার পড়া কনটেন্ট–এর মধ্যে যত ভুল থাকে সবগুলো খুজে বের করতে সাহায্য করে। তাই, বার বার রিডিং করলে যে সুবিধাগুলো পাবেনঃ
  • বানান ঠিক হবে।
  • কিওয়ার্ড ব্যবহার–এর সঠিক সমন্বয় হবে।
  • কনটেন্ট–এ ন্যাচারাল ভাব বজায় থাকবে।
এটা সত্য, নিশ ব্লগ কনটেন্ট-এর ক্ষেত্রে আপনাকে কিওয়ার্ড বা একটা টপিকে হাইলাইট করতে হবে, কিন্তু এটা করতে যেয়ে অতিরঞ্জিত কিছু করা যাবে না। আবার এসইও কনটেন্ট লিখতে যেয়ে ভাল মানের বা ভিজিটর ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার কথাও ভুলে যেয়েন না। গুগলে র‌্যাংক করা অধিকাংশ কন্টেন্টই ভিজিটর ফ্রেন্ডলি করে লেখা হয় এবং এরপর এসইও-এর ব্যাপার আসে। গুগলের ভাষায় ভিজিটর ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট মানেই বেশি বেশি ভিজিটর।

Leave a Reply