ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব:১১ – ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত

যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন জানেন তাদের জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের নাম হচ্ছে ৯৯ডিজাইন। এই সাইটটিতে শুধুমাত্র গ্রাফিক্স ডিজাইনেরা কাজ করতে পারে।  এ মার্কেটপ্লেসের কাজের জন্য কোন বিড করার ঝামেলা নাই কিংবা শক্তিশালী প্রোফাইল থাকার বাধ্যবাধকতা নাই। এখানে  ডিজাইন সম্পর্কিত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ কোন বায়ারের কোন ডিজাইনের কাজ প্রয়োজন হলে তারা এ মার্কেটপ্লেসে এসে প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সাররা এসব প্রতিযোগীতাতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীতাতে একজন প্রতিযোগী যতগুলো ইচ্ছা ডিজাইন সাবমিট করতে পারে। নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত প্রতিযোগীতা চলে, শেষের দিন বায়ার যার কাজটি সুন্দর হয়েছে তাকে বিজয়ী ঘোষনা করে। পরে বিজয়ীকে ঘোষিত অর্থ প্রদান করা হয়। সাধারণত একটা লোগো প্রতিযোগীতাতে জিতলে ৩০০ডলার থেকে ১২০০ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়।

বিখ্যাত এ মার্কেটপ্লেসের ওয়েব লিংক: 99designs.com ।

 ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১১ – ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত)

এর আগের পর্বগুলো যারা মিস করেছেন, তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিচ্ছি।

১ম পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

২য় পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

৩য় পর্ব:  ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে করনীয়

৪র্থ পর্ব:  চাকুরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং

৫ম পর্ব: বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের পরিচিতি

৬ষ্ঠ পর্ব: মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়ার উপায়

৭ম পর্ব: পেমেন্ট উত্তোলনের ‍উপায়

৮ম পর্ব: আপওয়ার্ক নিয়ে বিস্তারিত

৯ম পর্ব: ফাইভার নিয়ে বিস্তারিত

১০ম পর্ব: পিপল পার আওয়ার নিয়ে বিস্তারিত

কেন ডিজাইনাররা এ মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পছন্দ করেন?

–          এ মার্কেটপ্লেসে সফল হওয়ার জন্য প্রোফাইল পুরানো কিংবা কোন ফিডব্যাক যুক্ত থাকা নিয়ে কোন টেনশন করতে হয়না। অর্থাৎ নতুন যে কেউ আসলেও কোন ধরনের টেনশন ছাড়াই সফল হতে পারেন।

–          ডিজাইন প্রতিযোগীতাতে একজন ডিজাইনার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যতগুলা ইচ্ছা ডিজাইন সাবমিট করার সুযোগ পায়। তবে অবশ্যই বায়ারের বর্ণনা অনুযায়ি ডিজাইন করতে হবে।

–          অন্যদের ডিজাইনগুলো দেখা যায় এবং সে অনুযায়ি আরো সুন্দর করে নিজের ডিজাইনকে (ডিজাইন নকল করা যাবেনা) সাবমিট করার সুযোগ থাকে, এ সুযোগটির জন্য অনেকের পছন্দের মার্কেটপ্লেস এটি।

–          অন্যদের ডিজাইন দেখার সুযোগ এবং একটি প্রতিযোগী যতগুলো ইচ্ছা ডিজাইন সাবমিট করার সুযোগ পায়। সেজন্য নতুন কোন ডিজাইনারদের ডিজাইন কনসেপ্টে নিজেকে দক্ষ করার জন্য এ মার্কেটপ্লেসটি সবচাইতে চমৎকার সাপোর্ট করে থাকে।

–          অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে একটা লোগোর জন্য ইনকাম হতে পারে ২০-১০০ডলার। কিন্তু ৯৯ডিজাইনসে একটা লোগোর জন্য ইনকাম ১০০-১২০০ডলার পযন্ত হতে পারে।

–          অনেক সময় অভিজ্ঞ ডিজাইনারদের ডিজাইনকে পছন্দ  না করে নতুন ডিজাইনারদের ডিজাইনকে বায়ার বিজয়ি ঘোষনা করে। নতুনদের জন্য তাই অনলাইনের আয়ের জন্য বড় একটি সুযোগ এ মার্কেটপ্লেসে রয়েছে।

৯৯ ডিজাইনে যে সমস্ত কাজ পাওয়া যায় :

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১১ – ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত)

– লোগো ডিজাইন

– বিজনেস কার্ড ডিজাইন

– মার্কেটিং ব্রশিউর

– ওয়েব টেমপ্লেট ডিজাইন

– ব্র্যান্ড ডিজাইন

– ব্যানার ডিজাইন ইত্যাদি

৯৯ ডিজাইনে অ্যাকাউন্ট ও প্রোফাইল তৈরি :

এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে । ।এক্ষেত্রে একটা ইমেইল এড্রেস লাগবে । ডিজাইনার হিসেবে কাজ করার জন্য ডিজাইনার সিলেক্ট করে দিতে হবে। ইমেইল ভেরিফিকেশানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাকাউন্ট করার সময় সাইনআপ ফর্মে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হয়।

অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত হয়ে গেলে এখন প্রোফাইল তৈরি করা। প্রোফাইল তৈরি করার জন্য এডিট প্রোফাইল থেকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রোফাইলটা সাজিয়ে নিতে হবে।

প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফাই করার জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করে

একটি স্ক্যানিং কপি আপলোড করতে হবে।  নিজের গ্রুপ কিংবা কোম্পানীর নামেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার পর প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করা যায়।

 কাজের ধরন :

৯৯ ডিজাইনে সাধারণত কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতা দ্বারা বিজয়ী বাক্তিকে নির্বাচন করা হয়। নিম্নে কিছু প্রতিযোগিতার উদাহরণ দেয়া হল :

 ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১১ – ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত)

১) ফাস্ট ট্র্যাক প্রতিযোগিতা :

ফাস্ট ট্র্যাক প্রতিযোগিতা খুব অল্প সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়, মেয়াদকাল ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে হয় । এই ধরনের প্রতিযোগিতার পুরষ্কারের মূল্য অন্যান্য ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে বেশি হয়ে থাকে।

২) গ্যারান্টেড প্রতিযোগিতা :

এটি ডিজাইনারদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ ডিজাইনারকে আকৃষ্ট করে। ফলে আয়োজক সর্বোৎকৃষ্টমানের ডিজাইন পেতে পারে।

গ্যারান্টেড প্রতিযোগিতায় আয়োজক পুরষ্কারের মূল্য প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বেই ৯৯ ডিজাইন সাইটে জমা রাখে। আয়োজক নিশ্চিতভাবে একজন ডিজাইনারকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে এবং প্রতিযোগিতা শেষে সাইটটি বিজয়ী ডিজাইনারকে অর্থ প্রদান করে থাকে।

৩) প্রাইভেট প্রতিযোগিতা :

প্রাইভেট প্রতিযোগিতায় আয়োজক পুরষ্কারের মূল্য প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বেই ৯৯ ডিজাইনে জমা রাখে। প্রতিযোগিতা শেষে সাইটটি বিজয়ী ডিজাইনারকে অর্থ প্রদান করে থাকে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় আয়োজক কোন ডিজাইন পছন্দ না হলে প্রতিযোগিতা বাতিল করে অর্থ ফেরত নিতে যেতে পারে। এই ধরনের প্রতিযোগিতাকে সাইটের সার্চে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না এবং এগুলো সার্চ ইঞ্জিন থেকে লুকানো থাকে । তবে শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে লগইন করার পর দেখা যায়।

কাজ করার প্রক্রিয়া:

বায়ার তার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইনের একটি নির্দেশনা তৈরি করে যাকে বলা হয় ডিজাইন ব্রিফ । ডিজাইনাররা এই ব্রিফের উপর ভিত্তি করে তাদের ডিজাইন তৈরি করে থাকে।

বায়ার যেভাবে নির্দেশনা দেয় প্রতিযোগিতারা সেভাবে কাজ করে সাবমিট করে । প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করার জন্য এসময় ক্লায়েন্টকে ৩৯ ডলার অর্থ সাইটকে প্রদান করতে হয়। তবে এই সাইট থেকে ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে কোন ফি নেয়া হয় না। বায়ার পুরষ্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করে। পুরষ্কারের মূল্য সর্বনিম্ন ১০০ ডলার থেকে শুরু করে এক থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ বায়ারের বাজেটের উপর নির্ভর করে। প্রত্যেকটি প্রতিযোগিতা সর্বনিম্ন ১ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ডিজাইনাররা প্রজেক্টের ব্রিফের উপর নির্ভর করে ডিজাইন তৈরি করে এবং তৈরিকৃত ডিজাইনের একটি ছবি ওয়েবসাইটে জমা করে। এই ছবিগুলো যে কেউ দেখতে পারে। এতে একজনের ডিজাইন দেখে তার থেকে ভাল আরেকটি ডিজাইন তৈরি করার মানসিকতা ডিজাইনারদের মধ্য কাজ করে। যা পরিশেষে আয়োজকের জন্য সুফল বয়ে আনে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে আয়োজক জমা দেয়া প্রত্যেকটি ডিজাইনকে একটি রেটিং এবং একটি মন্তব্য প্রদান করে। কোন ডিজাইন ভাল না হলে তা ঠিক করার পরামর্শও আয়োজক দিয়ে থাকে। প্রত্যেক ডিজাইনার একের অধিক এবং ডিজাইনের বর্ণনা মেনে যতগুলো ইচ্ছা  ডিজাইন জমা দিতে পারে। রেটিং এবং মন্তব্য প্রদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মেসেজ বক্সের মাধ্যমেও আয়োজক ডিজাইনারদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তার কাঙ্খিত ডিজাইন তৈরি করিয়ে নেয়। প্রতিযোগিতা শেষ হবার পর আয়োজক একজনকে বিজয়ী হিসেবে নির্ধারণ করে এবং তার পুরষ্কার প্রদান করে। সবশেষে ডিজাইনার তার তৈরিকৃত মূল ডিজাইনের ফাইল আয়োজককে দিয়ে দেয়। কি কি ফরমেটে ফাইল জমা দিতে হবে সেটি ডিজাইনের বর্ণনাতে স্পষ্টভাবে লিখা থাকে।

প্রতিযোগীতাগুলোতে বেশি বেশি জয়ী হওয়ার সিক্রেট টিপস:

–         প্রতিযোগীতা যদি ৭দিনের হয়, তাহলে আপনার ১ম ডিজাইন সাবমিট করুন প্রতিযোগীতা শুরুর ৩য় দিনে।

–         ডিজাইন জমা দেওয়ার আগে ডিজাইনে বর্ণনা খুব ভালভাবে পড়ে নিন এবং অন্যদের জমা দেওয়া ডিজাইনগুলো খুব ভালভাবে লক্ষ্য করুন। এরপর ডিজাইন তৈরি করুন।

–         অন্য প্রতিযোগীদের কোন ডিজাইনগুলোতে বায়ার কোন ধরনের ফিডব্যাক দিচ্ছে না কিংবা কোন ডিজাইনগুলোকে বায়ার প্রতিযোগীতা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে, সেগুলো লক্ষ্য রাখুন খুব ভালভাবে।  এর মাধ্যমে বায়ার কোন টাইপ ডিজাইনগুলো কিংবা কোন রং একবারেই পছন্দ করছেনা, সে ব্যপারে ভাল একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আপনার ডিজাইনগুলো করার সময় বায়ারের অপছন্দের বিষয়গুলোই যাতে চলে না আছে সে ব্যাপারে সতর্ক থেকেই ডিজাইন করুন।

–         বায়ার কোন ধরনের ডিজাইনগুলোতে ভাল কমেন্ট দিচ্ছে এবং ফিডব্যাক ভাল দিচ্ছে,  এবং কেন ভাল ফিডব্যাক দিচ্ছে, সেটি খুব ভাল করে খুজে বের করুন।  এবার নিজের ডিজাইন করার সময় বিষয়গুলোতে মাথাতে রাখার চেষ্টা করুন।

–         ডিজাইন জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই সুন্দর মকআপের মাধ্যমে ডিজাইনটির প্রেজেন্টেশন তৈরি করুন। মকআপ ছাড়া কোন ডিজাইন জমা দিবেন না।   সুন্দর মকআপ ডিজাইনটিকে জিততে অনেক সহযোগিতা করে।

–         প্রতিযোগীতার জন্য সবচাইতে সেরা ডিজাইনটি শেষ দিনের ২দিন আগে জমা দিন এবং ডিজাইনটিতে বায়ারের ফিডব্যাকের দিকে সতর্ক নজর রাখুন।

–         বায়ার আপনার ডিজাইনে কোন ধরনের পরামর্শ দিলে বুঝে নিবেন, বায়ারের কাছে আপনার ডিজাইনটি ৮০% পছন্দ হয়ে গেছে। বাকি ২০% পছন্দ করানোর জন্য কিছুটা ঘোষামাজা করে আরো কয়েকটি ডিজাইন জমা দিন।

–         বায়ার কোন ধরনের পরামর্শ পাঠিয়ে আপনার সাথে পার্সোনাললি যোগাযোগ করলে সাথে সাথেই উত্তর দেওয়ার জন্য চেষ্টা করুন। তাহলে বায়ার পছন্দ করবে বেশি  এবং তখন আপনাকে দিয়েই তার পছন্দের ডিজাইনটি বের করে নেওয়ার চেষ্টাটি করবে। তখন জিতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

পেমেন্ট উত্তোলনের উপায়:

এ মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগীতাতে বিজয়ী ঘোষণার পর বায়ার প্রতিযোগীর অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট ডলার জমা করে দেয়।  এ ডলার উত্তোলন করতে চাইলে ৫-১০দিন লাগে।

ডলার উত্তোলনের উপায় চারটি:

–         পাইওনিয়ার

–         স্ক্রীল

–         পেপাল

–         ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১১ – ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত)

সতর্কতা:

১) প্রতিযোগীতাতে  অন্যদের ডিজাইন কখনও কপি করা যাবেনা।  কপি করলেই প্রতিযোগীতা থেকে সাসপেন্ড হয়ে যাবেন, এমনকি পুরো মার্কেটপ্লেস থেকে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে।

২)  প্রতিযোগীতার বর্ণনা ভালভাবে না পড়ে কোন ডিজাইন জমা দিলে  সেটির জন্য বায়ার মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে।   এতে প্রতিযোগিতা থেকে বাতিল হয়ে যেতে পারেন।

Leave a Reply