ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব:১৩ – মাইক্রোওয়ার্কারস নিয়ে বিস্তারিত

মাইক্রোওয়ার্কারস : এই মার্কেট প্লেসে সব  ছোট ছোট কাজগুলো পাওয়া যায় । যারা একবারে নতুন তাদের জন্য এই মার্কেট প্লেসে কাজ করা অনেক সহজ। মাইক্রোওয়ার্কারস সাইটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন নতুন কাজ পাওয়া যায়। এই সাইটের কাজগুলো অত্যন্ত ছোট ছোট। এখানে একটি কাজ কেবলমাত্র একবারই করা যায়। এক একটি কাজ করতে ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিটি কাজের মূল্য ০.১০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯.৭৫ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।  এ মার্কেটপ্লেসের লিংক: microworkers.com

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১৩ – মাইক্রোওয়ার্কারস নিয়ে বিস্তারিত)

এর আগের পর্বগুলো যারা মিস করেছেন, তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিচ্ছি।

১ম পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

২য় পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

৩য় পর্ব:  ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে করনীয়

৪র্থ পর্ব:  চাকুরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং

৫ম পর্ব: বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের পরিচিতি

৬ষ্ঠ পর্ব: মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়ার উপায়

৭ম পর্ব: পেমেন্ট উত্তোলনের ‍উপায়

৮ম পর্ব: আপওয়ার্ক নিয়ে বিস্তারিত

৯ম পর্ব: ফাইভার নিয়ে বিস্তারিত

১০ম পর্ব: পিপল পার আওয়ার নিয়ে বিস্তারিত

১১তম পর্ব: ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত

১২তম পর্ব: ইনভাটো নিয়ে  বিস্তারিত

মাইক্রোওয়ার্কারস এ যে সমস্ত কাজ পাওয়া যায় :

– ফোরাম পোস্টিং

– সাইন আপ

– ফেসবুক লাইক-ভোট

– টুইটার টুইট-রিটুইট

– ক্লিক-সার্চ

– বুক মার্ক

– ইয়াহু এনসার

– ডাউনলোড- ইন্সটল

– আর্টিকেল রাইটিং ইত্যাদি ।

কাজের ধরন :

মাইক্রোওয়ার্কারস এ দুই ভাবে কাজ করা যায় ।একটি হচ্ছে বেসিক জব  – অর্থাৎ কাজ শেষে এমপ্লয়ার তার চুক্তি অনুযায়ী একটা নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে ।

অপরটি হল হায়ার গ্রুপ জব । হায়ার গ্রুপ জব মানে সেলার অর্থাৎ ওয়ার্কার আপনাকে জবে হায়ার করবে। কাজে কোন ধরনের বিড করতে হয় না। কাজগুলো স্বল্প সময়ে করা যায়।

মাইক্রোওয়ার্কারস এ অ্যাকাউন্ট তৈরি  :

 ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১৩ – মাইক্রোওয়ার্কারস নিয়ে বিস্তারিত)

মাইক্রোওয়ার্কারস এ কাজের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে মাইক্রোওয়ার্কারস এ একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে । অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। একটা ইমেইল এড্রেস লাগবে। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড লাগবে (অবশ্যই আপনার ইমেইল পাসওয়ার্ডের চেয়ে ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিবেন)। তারপর কান্ট্রি অব রেসিডেন্স ঘরে কান্ট্রি সিলেক্ট করে সাবমিট  বাটনে ক্লিক করুন।  এখন আপনি যে মেইল ব্যাবহার করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন আপনার সেই মেইল চেক করুন। ইনবক্সে মাইক্রোওয়ার্কারস.কম এরকোন মেইল না এসে থাকলে স্প্যাম মেইল চেক করুন। প্রাপ্ত মেইলে যে অ্যাক্টিভেশন লিঙ্ক আছে সেটি ক্লিক করুন। অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করার জন্য ইমেইল ভেরিফিকেশান করা হয়। অ্যাকাউন্ট করার সময় সাইনআপ ফর্মে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হয় ।

মাইক্রোওয়ার্কারস এ কাজের জন্য কিভাবে আবেদন করতে হয় :

অ্যাকাউন্ট লগইন করার পর মেনু থেকে জবস লিংকে ক্লিক করে সকল কাজগুলো দেখা যাবে। প্রতিটি কাজের শিরোনামের সাথে কয়েকটি তথ্য পাওয়া যায় – কাজের মূল্য , কাজটি করতে আনুমানিক কত মিনিট লাগতে পারে,শতকরা কতজনের কাজ ক্লায়েন্ট গ্রহণ করেছে , কতজন এ পর্যন্ত কাজটি করছে ইত্যাদি। কোন একটি কাজের শিরোনামের উপর ক্লিক করে সেই কাজের বিস্তারিত আরো তথ্য জানা যাবে। এর মধ্যে “হোয়াট ইজ এক্সপেক্টেড ফ্রম ওয়ার্কারস ?” অপশন থেকে কাজের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যাবে। কাজটি যে আপনি যথাযথভাবে শেষ করেছেন তা প্রমাণ দিতে কি কি তথ্য প্রদান করতে হবে তা ” রিকুয়ারিড প্রুফ দেট টাস্ক ওয়াজ ফিনিশড ?” অংশের মাধ্যমে দেয়া থাকবে ।সবশেষে ” আই একসেপ্ট দিস জব ” লিংকে ক্লিক করে একটি টেক্সটবক্সে আপনার কাজের প্রমাণগুলো দিতে হবে। কোন কাজ করতে না পারলে “নট ইন্টারেস্ট ইন দিস জব ” লিংকে ক্লিক করে বের হয়ে যাওয়াই ভাল, সেক্ষেত্রে এই কাজটি আপনার ” এবিলেবল জবস ” এর পাতায় আর কখনও দেখাবে না।

মাইক্রোওয়ার্কারস এ কাজের বর্ণনা :

মাইক্রোওয়ার্কারস এ পেমেন্ট মেথড :

শুধুমাত্র “সেটিজফাইড” রেটিং পেলেই সেই কাজের টাকা আপনার একাউন্টের ব্যালেন্সের সাথে যুক্ত হবে। প্রথম উইথড্র করার আবেদনের সময় আপনার বাসার ঠিকানায় চিঠির মাধ্যমে একটি পিন   নাম্বার পাঠানো হবে। এই নাম্বারটি পরবর্তীতে সাইটে প্রবেশ করাতে হবে। পিন নাম্বারের চিঠিটি আসতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সর্বোচ্চ ৫০দিন।একবার ঠিকানা যাচাই করার পর পরবর্তী উইথড্র আবেদনের ০ দিন থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপনাকে মূল্য পরিশোধ করা হবে। মাইক্রোওয়ার্কারস থেকে বাংলাদেশে মানিবুকার্স এবং পেপালের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়। মানিবুকার্স দিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য ৬.৫% ফি এবং পেপাল দিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য ৭.৫ % ফি দিতে হয়।একাউন্টের ব্যালেন্স ৯ ডলারের উপর হলেই কেবলমাত্র টাকা তুলতে পারবেন। সাথে ফি দেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ একাউন্টে থাকতে হবে।

 সাবধানতা :

০১) সঠিক ঠিকানা ব্যাবহার করতে হবে নকল ঠিকানা ব্যাবহার করা যাবে না।

০২) একই আই,পি দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট না খোলা ভাল।

০৩) মাইক্রোওয়ার্কারস আইডি পূর্ণভাবে ভেরিফাই করতে হবে।

Leave a Reply