ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব:১৪ – অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে বিস্তারিত

অ্যামাজন হচ্ছে অনলাইনে পণ্য বিক্রির সবচাইতে বড় স্টোর। অ্যাফিলিয়েশনের ক্ষেত্রেও সবচাইতে বড় সেক্টর হচ্ছে অ্যামাজন। এখানে পণ্যের মধ্যে শিপিং পণ্য বেশি। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ছোট থেকে বড় সকল পণ্য অ্যামাজনে পাওয়া যায়। সে সব পণ্যের বিক্রির জন্য অ্যাফিলিয়েশন করা যায়। সাইটের লিংক: affiliate-program.amazon.com

ভালভাবে কাজ না জেনে  অ্যাফিলিয়েশন এর জন্য অ্যামাজনে অ্যাকাউন্ট  না খোলাই  ভালো  । কারণ  ৯০ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট  বিক্রি  করতে না পারলে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে । অ্যাফিলিয়েশন করার জন্য নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে, সেই ওয়েবসাইটকে এসইও করতে হবে।  অ্যাফিলিয়েশন হচ্ছে, অনলাইনে ইনকামের যতগুলো জায়গা আছে, তার মধ্যে সবচাইতে সেরা সেক্টর হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন, সবচাইতে বেশি পরিমান ইনকামের জায়গা অ্যাফিলিয়েশন।  আমরা বলে থাকি, কেউ যদি বিদেশে গিয়ে যে ইনকাম করতে পারতো, সেটি যদি এদেশে বসেই করতে চায়, তাহলে তার জন্য সবচাইতে সেরা সেক্টর হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১৪ – অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে বিস্তারিত)

এর আগের পর্বগুলো যারা মিস করেছেন, তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিচ্ছি।

১ম পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

২য় পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

৩য় পর্ব:  ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে করনীয়

৪র্থ পর্ব:  চাকুরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং

৫ম পর্ব: বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের পরিচিতি

৬ষ্ঠ পর্ব: মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়ার উপায়

৭ম পর্ব: পেমেন্ট উত্তোলনের ‍উপায়

৮ম পর্ব: আপওয়ার্ক নিয়ে বিস্তারিত

৯ম পর্ব: ফাইভার নিয়ে বিস্তারিত

১০ম পর্ব: পিপল পার আওয়ার নিয়ে বিস্তারিত

১১তম পর্ব: ৯৯ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত

১২তম পর্ব: ইনভাটো নিয়ে  বিস্তারিত

 ১৩তম পর্ব: মাইক্রোওয়ার্কার্স নিয়ে  বিস্তারিত

কাদের জন্য উপযুক্ত অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশন ?

ভালভাবে এসইও জানা থাকলে, যাদের ইংরেজিতে দক্ষতা ভাল রয়েছে, সেই সাথে মার্কেটিং দক্ষতা   থাকলে অ্যাফিলিয়েশনে সফল হওয়া সম্ভব।  সেই সাথে পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং ধৈয্য শক্তি ছাড়া  এ সেক্টরে সফল হওয়া সম্ভব না।  যেকোন ধরনের অ্যাফিলিয়েশনের ক্ষেত্রে পেইড মার্কেটিংয়ের দরকার পড়ে। সেজন্য ইনভেস্ট করার মত প্রস্তুতি থাকলে অ্যাফিলিয়েশন শুরু করা যেতে পারে।

আমাজনে অ্যাকাউন্ট তৈরি  :

কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজে আমাজনে অ্যাকাউন্ট খুলা যায় । আমাজনে অ্যাফিলিয়েশন করতে হলে প্রথমে আমাজনে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে । ওয়েব ঠিকানা: https://www.amazon.com/ । এক্ষেত্রে একটা ইমেইল এড্রেস লাগবে।  অ্যাকাউন্ট করার সময় সাইনআপ ফর্মে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হয় ।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশন করার জন্য কি কি জানা লাগবে ?

– নিশ নির্বাচন ও কিওয়ার্ড রিসার্স

– প্রোডাক্ট রিসার্স

– নিশ সাইট বা ব্লগ তৈরি

– গুণগত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট রাইটিং

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

– পেইড মার্কেটিং (অ্যাডওয়ার্ড, ফেসবুক, মিডিয়া বাই প্রভৃতি)

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১৪ – অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে বিস্তারিত)

১) নিশ নির্বাচন ও কিওয়ার্ড রিসার্স : নিশ হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট বিষয় । আপনি যে ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েশন করতে চান সেইগুলো খুঁজে বের করতে হবে। গুগলের মতো অ্যামাজনও সার্চ বারে সম্ভাব্য সার্চ রেজাল্ট দেখায়। যে সার্চ রেজাল্টটি সবার প্রথমে দেখায় তা আপনার পেজের টাইটেল হিসেবে ব্যবহার করুন অথবা আপনার পেজের বর্ণনায় সেই কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করুন।

যে নিসটি নির্বাচন করবেন তার ব্যাকগ্রাউন্ডে যাতে কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস না  থাকে তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য  http://alltop.com এই সাইটটি  আপনাকে সাহায্য করবে।

এই সাইটটি মূলত বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইটের আর এস এস ফিড নিয়ে তৈরী করা। এই সাইটি ওপেন করলে সেখানে দেখা যায় A থেকে Z পর্যন্ত নেভিগেশান বার। ঐ বারের যে কোন একটা লেটারে ক্লিক করলেই ড্রপ ডাউন ম্যেনুতে ঐ লেটারের আওতায় বিভিন্ন টপিক্স দেখতে পারবেন। ঐ টপিক্সগুলো থেকে সহজেই পছন্দের নিস বাছাই করা যায়। এমন একটি নিশ নির্বাচন করতে হবে যাতে পর্যাপ্ত পরিমান মানুষের আগ্রহ আছে এবং তাতে অনেক প্রোডাক্ট আছে যেগুলো প্রমোট করলে আপনি ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। নিস খুঁজার জন্য সবসময় মেইন ক্যাটাগরিতে না খুজে ঐ মেইন ক্যাটাগরিরি সাবক্যাটাগরিতে খুঁজলে ভাল ফিডব্যাক পাওয়া যাবে । তাহলে খুব দ্রুতই আপনি আপনার কাংক্ষিত নিস খুঁজে পাবেন। নিস খুঁজার সময় মনে রাখতে হবে আপনি যে নিসটি নির্বাচন করছেন সেটা যাতে কোন ব্রান্ডের সাথে সংঘর্ষ পূর্ণ না হয় । ইনফরমেশন সাইটগুলো তখনি ভালো করে যখন সার্চ ইঞ্জিন থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে ট্রাফিক পাওয়া যায়। সার্চ ইঞ্জিন থেকে তখনি ট্রাফিক পাওয়া যাবে যখন আপনার সাইট সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল পাতায় অনেক কিওয়ার্ডের জন্য শীর্ষে অবস্থান করবে। কিওয়ার্ড নিবার্চন তাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে এমন কিওয়ার্ড গুলো নির্বাচন করতে হবে যেগুলো বায়িং কিওয়ার্ড, যে প্রোডাক্ট গুলো আপনি প্রচার করবেন তার সাথে সম্পর্কিত, পযাপ্ত পরিমানে সার্চ ভলিয়ম আছে এবং সেই গুলোর এসইও কম্পিটশন কঠিন নয়। নিশ নিবার্চন করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত এভারগ্রীণ বা চির সবুজ নিস বাছাই করা যাতে সবসময় ট্রাফিক পাওয়া যায়।

২) প্রোডাক্ট রিসার্স : প্রোডাক্ট রিসার্স করতে হলে আপনাকে মার্কেট সম্পর্কে জানতে হবে । আপনি যদি আমাজন নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে দেখতে হবে এই মার্কেটপ্লেসের বর্তমান অবস্থা । কোন কোন প্রোডাক্টগুলো সেল হচ্ছে ভাল এবং কোন ধরনের প্রোডাক্টগুলো আপনি সেল করতে পারবেন । সেই প্রোডাক্টগুলো থেকে অ্যাফিলিয়েটের জন্য নির্বাচণ করতে হবে।

আপনি যদি ভুল প্রোডাক্ট বা ক্রেতার চাহিদার বাইরের কোনো পণ্য নির্বাচণ করেন, সেক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিতভাবে ঐ প্রোডাক্টটি বিক্রয় করতে অসমর্থ হবেন এবং এমনকি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন।

প্রোডাক্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, যেটি বাছাই করবেন, সেটি যাতে নিত্য ব্যবহায্য  প্রোডাক্ট হয় এবং অবশ্যই ভালো ব্রান্ডের প্রোডাক্ট হয়। তাহলে প্রোডাক্ট মার্কেটিং করলে বিক্রি সহজে হবে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব:১৪ – অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে বিস্তারিত)

সবশেষ পরামর্শ: অনলাইনে আয়ের সবচাইতে বড় সেক্টর হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন।  কিন্তু লোভে পড়ে প্রস্তুতি না নিয়ে এ সেক্টরে পদচালনা শুরু করা উচিত না। নিজেকে আগে এসইও সেক্টরে দক্ষ করে তুলুন, অনলাইন মার্কেটিংয়ের সকল বিষয় ভালভাবে আয়ত্ব করুন, এরপর অ্যাফিলিয়েশনের পরিকল্পনা করলে ব্যর্থ হতে হবেনা।  এসইও, অনলাইন মার্কেটিং,  ইংরেজিতে দক্ষতা, আর্টিকেল রাইটিংয়ের অভিজ্ঞতা অ্যাফিলিয়েশন শুরুর জন্য সবচাইতে বেশি জরুরী।

Leave a Reply