ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব ০২ : ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাগুলো নিয়ে আজকের পর্বটি সাজিয়েছি। এ ভুল ধারণাগুলোর বিষয়ে সবার ধারণা পরিস্কার করলে আরো অনেক ফ্রিল্যান্সার তৈরি হবে আমাদের দেশে।

১ম পর্বের লিংক:এখানে

এক নজরে বিস্তারিত

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা:

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব ০২ : ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

–       সবজায়গাতে ব্যর্থ, শেষ গন্তব্য ফ্রিল্যান্সিং।

–       ফ্রিল্যান্সিং মানেই আপওয়ার্ক, ইল্যান্স ইত্যাদি জায়গাতে কাজ করা।

–       ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য খুব বেশি যোগ্যতার দরকার নাই।

–       ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অসাধারণ গুণের অধিকারী হতে হয়।

–       ফ্রিল্যান্সিং চাকুরি কিংবা পড়ালেখার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকুরি হতে পারে, ফুলটাইম না।

–       চাকুরিতে সবসময় টাকা আসার নিশ্চয়তা থাকলেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা অনিশ্চিত।

–       বিদেশীদের মত ইংরেজি না জানলে ফ্রিল্যান্সার হওয়া যাবেনা।

–       পড়ালেখা না জেনেও ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে।

–       ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য ৭দিন কিংবা ১মাসের প্রস্তুতি যথেষ্ট।

–       ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য নিজের নামে পেপাল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

–       ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে ট্রেনিং সেন্টারে যেতে হবে।

–       সায়েন্সের স্টুডেন্ট না হলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করা যায়না।

১) সব জায়গাতে ব্যর্থ, শেষ গন্তব্য ফ্রিল্যান্সিং:

এ ধারণাটি সমাজে অনেক বেশি প্রচলিত। পড়ালেখা কিংবা কোন কিছুতেই কিছু করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কোন কিছু করার ব্যাপারে খুবই অলস, এ অলসতার কারনেই নিজের ক্যারিয়ার সাজাতে পারছেননা। এরকম মানুষজনের ভাবনাতেও থাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার চিন্তা। অনেক সময় এ চিন্তাটা আরো ভয়াবহ হয়। তারা ভেবে থাকে, কোন কিছুই আমাকে দিয়ে হবেনা। ফ্রিল্যান্সিংটাতো আছেই, সেটা দিয়েই অনেক অনেক টাকা আয় করব।

আসল সত্য: ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে অযোগ্যদের জায়গা নাই। যতবেশি যোগ্যতা অর্জন করবেন, অনলাইনে আপনার আয় তত বৃদ্ধি পাবে। যোগ্যতা ছাড়া হয়ত পাঁচ-দশ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। কিন্তু সেটি অবশ্যই সাময়িক আয়। ফ্রিল্যান্সিং যখন করবেন, স্বপ্নটা পাঁচ-দশ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাটা বোকামী।

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন সফল ক্যারিয়ার গড়ুন পর্ব ০২ : ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

২) ফ্রিল্যান্সিং মানেই আপওয়ার্কে (পুরাতন নাম: ওডেস্ক) কাজ করা:

আমাদের দেশের একটা ধারণা প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে, অনলাইনে আয় করতে হলে আপওয়ার্কেই বিড করে কাজ যোগাড় করতে হবে। আর যখন কাজ না পায়, তখন হতাশ হয়ে কাজ ছেড়ে দেয়। অনেকক্ষেত্রে আপওয়ার্কে কাজ পেতে ব্যর্থ হয়ে কাজ পাওয়ার জন্য স্পামিং করছে, কাজের রেট কমিয়ে বিড করছে। যার কারনে আমাদের দেশের ব্যাপারে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে একটা বাজে অবস্থান তৈরি হচ্ছে।

আসল সত্য: পৃথিবীতে যত কাজ আউটসোর্স হচ্ছে, তার মধ্যে মাত্র ৭% কাজ মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাওয়া যায়। মার্কেটপ্লেস ছাড়াও আর কিভাবে কাজ পাওয়া যায়, সেটি জানার জন্য সকল পর্বে চোখ রাখুন। সে বিষয়ে এ ধারাবাহিকের কোন একটা পর্বে আলোচনা করা হবে।

৩) ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য খুব বেশি যোগ্যতার দরকার নাই:

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনেকের ভাবনাতে থাকে, পত্রিকাতে অল্প কিছু পড়লাম, কিংবা সেমিনারে গিয়ে কিছু বিষয় জানা হয়েছে, এখন চাইলেই শুরু করে দেওয়া যাবে ফ্রিল্যান্সিং। ১মাস- দুই মাসের প্রস্তুতিতেই অনেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখে। আবার প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টা সময় দেওয়াটোকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেননা। কম পরিশ্রমেই অনলাইন সেক্টরের স্বপ্নটা একসময় খুব বড় হতাশা সৃষ্টি করে এবং সেই সাথে অনলাইন জগত সম্পর্কে বাজে একটি ধারণা তার মনে তৈরি হয়।

 আসল সত্য: ফ্রিল্যান্সিং জায়গাটা শুধুমাত্র যোগ্যদের জন্য। কারণ কোন ক্রেতা তার কাজ করানোর জন্য সারা বিশ্বের অনেকজন ফ্রিল্যান্সার মধ্য থেকে সেরা কাউকে বাছাই করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সুতরাং যাদের যোগ্যতা কম তাদের তখন কাজ না পাওয়ার সম্ভাবনাটা থাকে। শুরুতে প্রচুর সময় এবং পরিশ্রম করে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তারপর ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের চেষ্টা করা উচিত।

 ৪) ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অসাধারণ গুণের অধিকারী হতে হয়:

যারা অনলাইনে আয় করছেন তাদের মত আমার যোগ্যতা নাই। আমি সে জায়গাতে আমার পক্ষে পৌছানো সম্ভবনা, এধারণা থেকে অনেকেই পিছিয়ে পড়েন।

আসল সত্য: মাথাতে রাখা উচিত, যারা এমুহূর্তে সফলভাবে অনলাইনে আয় করছেন, তারা একসময় খুবই সাধারণ ছিল। পরিশ্রম এবং প্রশিক্ষণ তাদেরকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যে কেউ যদি কাজ শিখে নেয় এবং প্রচুর পরিশ্রম করে, তাহলে যে কেউ অনলাইনে সফল হতে পারে।

৫) ফ্রিল্যান্সিং পার্টটাইম চাকুরি, ফুলটাইম না:

১১) ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স না করলে ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়না:

অনেকের  আফসোস দেখেছি, তারা  টাকার অভাবে ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারছেনা দেখে ফ্রিল্যান্সার হতে পারছেনা দেখে আফসোস করে। ধারণা তৈরি হয়ে গেছে ট্রেনিং সেন্টারে না গেলে অনলাইন হতে আয় করা সম্ভবনা।

আসল সত্য: অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে, ইউটিউবে এখন প্রচুর রিসোর্স আছে যা দেখে চাইলে ঘরে বসেই খুব ভালভাবেই সব কিছু শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। বর্তমানে বাংলাতেই অনেক ভাল রিসোর্স পাওয়া যায়, যা কাজ শুরু করার জন্য যথেষ্ট। তবে এটা সত্য নিজে নিজে রিসোর্স পড়ে শিখতে গেলে পরিশ্রম এবং সময় বেশি লাগে।

১২) সায়েন্সের স্টুডেন্ট না হলে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়না:

অনেক সময় কমার্সের স্টুডেন্ট কিংবা মানবিক বিভাগের স্টুডেন্টরা মনে ধারণা পোষণ করে, তারা অনলাইন হতে আয় সম্ভব না। যেহেতু কাজটি কম্পিউটারে বসে করতে হয়, তাই শুধুমাত্র কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টরাই কাজটি করতে পারবে, এরকম ভুল ধারণাও সমাজে প্রচলিত আছে।

আসল সত্য: অনলাইনে ক্যারিয়ারের সাথে অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনধরনের সম্পর্ক নাই। মানবিক কিংবা বাণিজ্য কিংবা সায়েন্স যেকোন বিভাগের যে কেউ অনলাইনে কাজের দক্ষতা অর্জন করে সেগুলোর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হতে পারে।

Leave a Reply