Amazon FBA তে বিক্রির জন্য প্রফিটেবল প্রোডাক্ট সিলেকশন করবেন যেভাবে

Amazon FBA কি- এই নিয়ে লেখার পর অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন কিভাবে বাংলাদেশে বসে আমাজনে নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন এবং কিভাবে আমাজনে বিক্রির মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রমোট করা সম্ভব। লেখাটি এখানে ক্লিক করে পড়ুনঃ আমাজন FBA কি? সত্যি বলতে আমাদের দেশে অবশ্যই এমন অনেক ভালো ব্র্যান্ড এবং সেলার আছেন যারা চাইলেই নিজেদের প্রোডাক্ট এবং ব্র্যান্ডকে আমাজনে বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতীকিকরণ করতে পারেন। শুধু দরকার আমাজনে ব্যাবসায় করার সঠিক নিয়ম-নীতি এবং ধারাবাহিক একটি গাইডলাইন। তাহলেই আমরা বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা এক নতুন দিগন্তের খোঁজ পাবো যেখানে নিজেরা গ্লোবালি সেল করার পাশাপাশি দেশে বসেই দেশের জন্য রেমিটেন্স অর্জনে নিজের ভূমিকা রাখতে পারব।

আমার লেখাগুলো থেকে যদি সামান্যতম কিছুও নতুনভাবে শিখে থাকেন তবে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে আপনার মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না। আপনার যে কোন প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা এবং পরামর্শ আমাকে সাহায্য করবে আপনাদের আরও নতুন কিছু দিতে। আপনারা উপকৃত হলেই তা আমাকে আরও নতুন কিছু বলার এবং করার অনুপ্রেরণা দেয়। আচ্ছা,

আমাজনে সেল করার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি একটা অতীব গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে ভেবে নিতে হয় আর তা হচ্ছে কিভাবে আপনি আপনার জন্য সবচাইতে লাভজনক পন্যের দেখা পাবেন অর্থাৎ আমাজনে বিক্রির জন্য সঠিক ও প্রফিটেবল প্রোডাক্ট সিলেক্ট করবেন কিভাবে।

সারা পৃথিবীতে কেনা বেচা করার মত পন্যের অভাব নাই। অগুনিত পন্যের অগুনিত মডেল, সব আইটেমেরই চাহিদা প্রায় সব দেশেই সবার কাছে আছে কম আর বেশি। কিন্তু আপনি অবশ্যই চাইবেন তুলনামূলক ভালো এবং সেলেবল প্রোডাক্টটাই বিক্রি করতে যাতে করে আপনি ধারাবাহিকভাবে সেল করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে আমাজনে সেল করার জন্য প্রোডাক্ট সিলেকশনেও আপনাকে কিছু রিসার্চ করে নিতে হবে যে বিষয়টা নিয়ে এই আর্টিকেলে লিখবো। আসলে এই প্রফিটেবল প্রোডাক্ট সিলেকশনটা In depth অনেক কিছু নিয়ে রিসার্চ এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখায় বিষয়। আমি এখানে চেষ্টা করবো সাধারণ এবং সহজভাবে তার কিছু বিষয় তুলে ধরতে।

১. সেই দামের পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করুন যেগুলোর সেল প্রাইস 10-100 USD এর মধ্যে রাখা সম্ভব হবে।

২. আপনার পন্যের সিঙ্গেল প্যাকেজিং সাইজ খুব বেশি বড় না, ডেলিভারির জন্য প্যাকেজ সহ সহজে ক্যারি করতে পারার মতন।

৩. খুব বেশি ওজন হয়ে যায়, শুরু করার জন্য এমন পণ্য সিলেক্ট না করে একটু হালকা গোছের পণ্য নিয়ে কাজ করা ভাল।

৪. কম্পিটিশন সবকিছুতেই থাকবে। তবে মার্কেট কম্পিটিশন খুব বেশি, এমন কিছুর চেয়ে তুলনামূলক কম কম্পিটিটিভ আইটেম দিয়ে আপনার প্রথম আমাজনে শিপমেন্ট শুরু করতে পারেন।

৫. আপনার টার্গেটেড কি-ওয়ার্ডে আমাজন সার্চ রেজাল্টে যা আসে সেগুলোর অধিকাংশই খুব বেশি রিভিউ প্রাপ্ত হয়ে থাকলে অল্টারনেটিভ কিছু একটা নিয়ে এগুনোই সুবিধাজনক।

৬. যে আইটেম/ পণ্যগুলো ব্যাবহার করতে গেলে আরও প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ লাগে সেগুলো এড়িয়ে শুরু করা ভালো।

এবার একটু বিস্তারিত বলা যাক, প্রথমেই বলি দামের ব্যাপারটা। আমরা ব্যাবসা করি টাকা দিয়ে এবং লক্ষ্য থাকে টাকা আয় করার। তাহলে অবশ্যই টাকা পয়সা দিয়ে কেনা বেচার ব্যাপারগুলোতে গভীর মনোযোগ দিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমাজন এফবিএ বিজনেস করার জন্য সঠিক পন্যের সঠিক প্রাইসিং বোঝাটা খুবই দরকারী। আপনি হয়ত চিন্তা করলেন ১০ টাকায় কিনে ১৫ টাকায় বেচবো। লাভ হবে ৫ টাকা, আদতে হিসাবটা এত সহজ হয় কোন ব্যাবসায়েই, এটা বোধকরি আপনিও ভালো জানেন। কারণ মুখের হিসাবে আপনি ৫ টাকা লাভ দেখলেও করতে গিয়ে দেখবেন আরও কিছু খরচ এতে যোগ হয়েছে যাতে করে আপনার প্রফিট মুখের হিসাবের মতন বরাবর ৫ টাকাতে নাই। হতে পারে ৪ টাকা বা ৩ টাকা হয়ে গেছে। তাই পন্যের প্রাইস নির্ধারণ এবং খরচের হিসাবটা সেভাবেই জেনে বুঝে করতে হবে।

একটা উদাহরণ দিই, (প্রতি প্রোডাক্ট ভেদে)

  • আপনি ঠিক করলেন আমাজনে $20 দামে আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্য বিক্রি করবেন।
  • ওই পণ্য কিনতে আপনার খরচ হল $5
  • এবার আপনাকে Shipping cost যোগ করতে হবে $3
  • ট্যাক্স/ ইম্পোর্ট ডিউটি $1
  • FBA ওয়ারহাউজে ডেলিভারি খরচ 0.80 cents
  • Amazon FBA Fulfillment Fee $6
  • আপনার সেলের ওপরে আমাজনের কমিশন 15% বা $3

কত হল? $18.8 তারমানে আপনার সব খরচ বাদ দিয়ে প্রফিট থাকছে $1.20

তাই আমার পরামর্শ থাকবে এমন কিছু আইটেম বা প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যাবসা শুরু করেন যা আমাজনে বিক্রি করে আপনি প্রায় ২৫% মার্জিন নিট প্রফিট করতে পারেন।

উপরে আমাজনের FBA Fulfillment Fee এর হিসাবটা অনেকের কাছে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। ক্লিয়ার করে দিচ্ছি।

Amazon FBA Fee বুঝার জন্য নিচের ছবিতে দেখুন-

Amazon FBA তে বিক্রির জন্য প্রফিটেবল প্রোডাক্ট সিলেকশন করবেন যেভাবে

find profitable products to sell on amazon FBA

একই প্রোডাক্ট আমাজনে দেখুন এখানে ক্লিক করে

এবার দেখুন আলিবাবা তে বিক্রি হচ্ছে কত কম দামে!

মনে রাখবেন, অতিমাত্রায় বড় এবং বেশি ভারি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে গেলে আপনাকে কয়েকদফায় যে শিপিং প্রসিডিউরের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে তাতে আপনাকে অযথা অনেক খরচ গুনতে হতে পারে। তাই লাইটওয়েট আইটেম নিয়ে আপনার ব্যাবসায় শুরু করতে পারেন। যা ওজনেও হালকা, আয়তনেও বেশি জায়গা নেবে না।

পরের পোস্টে আমি লিখবো কিভাবে ম্যানুয়ালি আপনি আমাজনের টপ সেলিং প্রোডাক্টগুলো খুঁজে বের করবেন  এবং তাতে থাকবে কিছু পেইড টুলের ব্যাবহার।

 

 

Source: marketrocker.com

Leave a Reply